১৪ জানুয়ারি থেকে গঙ্গাসাগরে ২৪ ঘণ্টার পুণ্যস্নান, ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি
গঙ্গাসাগর, ১২ জানুয়ারি (হি. স.) : এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যস্নান শুরু হবে ১৪ই জানুয়ারি, বুধবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট থেকে। চলবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত—টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে পুণ্যার্থীরা স্নানের সুযোগ পাবেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স
১৪ জানুয়ারি থেকে গঙ্গাসাগরে ২৪ ঘণ্টার পুণ্যস্নান, ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি


গঙ্গাসাগর, ১২ জানুয়ারি (হি. স.) : এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যস্নান শুরু হবে ১৪ই জানুয়ারি, বুধবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট থেকে। চলবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত—টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে পুণ্যার্থীরা স্নানের সুযোগ পাবেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য একাধিক নতুন পরিকাঠামো ও ডিজিটাল পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

গঙ্গাসাগরে ৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪ লেনের গঙ্গাসাগর ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। তবে এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো আর্থিক সহায়তা নেই বলে জানানো হয়েছে। তটভূমির রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাগর বাসস্ট্যান্ড ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড নতুন করে আরও একটি করে করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে একাধিক স্বাগত তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। স্নানের পর বিনামূল্যে ছবি-সহ পুণ্যস্নান সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

মেলায় ডিজিটাল ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিউ আর কোডের মাধ্যমে মেলা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য—অনুসন্ধান অফিস, পার্কিং লট, হাসপাতাল-সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা সম্পর্কে জানা যাবে। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য ‘ই-পরিচয়’ এবং রিস্ট ব্যান্ড দেওয়া হচ্ছে, যাতে হারিয়ে গেলে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।

পিএইচই মন্ত্রী পুলক রায় জানান, পানীয় জলের জন্য ১৪টি মেশিনে পাউচ জল সরবরাহ করা হচ্ছে, পাশাপাশি ৭৬টি ওয়াটার কিয়স্ক বসানো হয়েছে। প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৩৮৫০টি মাইক। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ৪২টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ১১ হাজার ৩০০টি টয়লেট।

পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, যাত্রী পরিবহণে বাড়ানো হয়েছে বাস, ভেসেল, বার্জ ও লঞ্চের সংখ্যা। কলকাতা থেকে লট ৮ ঘাট পর্যন্ত চলবে ৩৬০০টি বাস। কচুবেড়িয়া থেকে মেলাপ্রাঙ্গন পর্যন্ত বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু জানান, অগ্নিনির্বাপণে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। রুদ্রনগর ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি ১৮টি অস্থায়ী ফায়ার স্টেশন, ১৬টি বাফার জোন, ৩৮টি ভেহিকেল ও ৭৫টি মোটরসাইকেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকসহ ৩৭০ জন কর্মী থাকবেন। রয়েছে ১১টি জলের ট্যাঙ্ক ও হাইড্রেন পয়েন্ট।

সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, “গঙ্গাসাগর ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেলা। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি না পেলেও রাজ্য সরকার সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে।” তিনি জানান, ২০ হাজার ৪০০ স্কোয়ার মিটার বীচ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, সমুদ্রতটের ভাঙন রোধে গবেষণা চলছে। এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৩৩ কোটি টাকা। ১১টি সেচ জলপথ তৈরি করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি বিকাল ৩টা পর্যন্ত গঙ্গাসাগরে এসেছেন প্রায় ৪৫ লক্ষ পুণ্যার্থী। এই সময়ের মধ্যে ৮৪ জন নিখোঁজ হলেও ৮০ জনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ ২ জন পুণ্যার্থীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিন উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পুলক রায়, সুজিত বসু, বঙ্কিম হাজরা, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বেচারাম মান্না এবং সাংসদ বাপি হালদার।

হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা




 

 rajesh pande