
বাঁকুড়া, ১৫ জানুয়ারি (হি.স.): বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ ও মারধরের ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঁকুড়ার ছাতনা এলাকায়। বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আহত এক যুবকের। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ছাতনা থানার বড় কালীতলা এলাকায়। মৃতের নাম রাজীব রজক। তিনি আসানসোলের একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বারো বছর আগে ছাতনা থানার পড়্যাশোল গ্রামের পায়েলের সঙ্গে রাজীবের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
অভিযোগ, স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এই সন্দেহকে কেন্দ্র করে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। রবিবার সেই ঝগড়া চরমে ওঠে। পারিবারিক সূত্রে ও প্রতিবেশীদের তরফে জানা যায়, ওইদিন দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। ঝগড়ার সময় স্ত্রীর ছোড়া মোবাইল ফোনের আঘাতে তাঁদের দশ বছরের ছেলে আহত হয় বলেও অভিযোগ।
এই ঘটনার পর পায়েলের বাপের বাড়ির লোকজন রাজীবের বাড়িতে এসে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। মারধরের পর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে রাজীবও তাঁদের খোঁজে বের হন। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবার পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
রবিবার গভীর রাতে ছাতনা থানার পুলিশ রাজীবকে ছাতনা রেলস্টেশনের কাছে রেললাইনের ধারে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ছাতনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার মৃতের পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন রাজীবকে মারধর করে রেললাইনের ধারে ফেলে দিয়ে যায়। রাজীবের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে মৃতের পরিবার। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট