
হাফলং (অসম), ১৫ জানুয়ারি (হি.স.) : বহিঃরাজ্যের পর্যটকদের মারপিট করা সহ নিয়মবর্হিভূতভাবে টাকা নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে হাফলং শহরের এক হোম স্টে মালিকের বিরুদ্ধে।
গত ১১ জানুয়ারি ত্রিপুরা থেকে ২২ জনের এক পর্যটকের দল ডিমা হাসাও জেলায় বেড়াতে এসে হাফলং শহরের ‘আপনা ঘর’ নামের এক হোম স্টে বুক করেছিল। কিন্তু ওই হোম স্টে-তে এসে ত্রিপুরার এই পর্যটক দলের অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। হাফলঙের এই হোম স্টে ‘আপনা ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী স্বরাজ পালের বিরুদ্ধে পর্যটক দলের মহিলা সদস্যদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও মারধরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন ত্রিপুরার নাগরিকরা।
বহিঃরাজ্যের এই পর্যটকের দল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডিমা হাসাও জেলার মানুষের অতিথেয়তা খুবই ভালো। এখানে অটো চালক থেকে শুরু করে ক্যাবচালক, সকলের ব্যবহার অমায়িক। কিন্তু হাফলঙের ‘আপনা ঘর’ নামের যে হোম স্টে তাঁরা বুক করেছিলেন, তার স্বত্বাধিকারী স্বরাজ পালের অভব্য আচরণে তাঁদের মর্মাহত করেছে। পর্যটকের ওই দলটির অভিযোগ, তাঁরা যখন ‘আপনা ঘর’ নামের হোম স্টে বুক করেন, তখন তাঁদের বলা হয়েছিল তাঁরা যদি হোম স্টেতে রান্না করে খেতে চান তা-হলে তাঁদের অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে দিতে হবে।
কিন্তু ১১ জানুয়ারি তাঁরা ‘আপনা ঘর’-এ আসার পর তাঁদের বলা হয়, তাঁরা যদি এই হোম স্টেতে রান্না করে খাওয়া-দাওয়া করেন, তা-হলে তাঁদের প্রতিদিন দেড় হাজার টাকা করে দিতে হবে। এ কথা শুনে তাঁরা হোম স্টের স্বত্বাধিকারী স্বরাজ পালের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন। তিনি নাকি তাঁদের বলেন, এখানে রান্না করে আহার করলে দেড় হাজার টাকা করেই দিতে হবে।
তার পর তাঁরা এই হোম স্টেতে একদিন রান্না করে খাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন বাইরে হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করেন। কিন্তু তার পরও ‘আপনা ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী তাঁদের কাছে অনৈতিকভাবে দেড় হাজার টাকা করে তিন হাজার টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী পর্যটকরা জানিয়েছেন, তাঁরা হোম স্টের স্বত্বাধিকারীর দাবি অনুযায়ী টাকা শোধ করে দেন। তার পরও স্বরাজ পাল মদ্যপ অবস্থায় পর্যটকদের মারপিট করেন, এমন-কি পর্যটক দলের সঙ্গে আগত মহিলাদেরও শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে হোম স্টে থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করে ত্রিপুরার ওই পর্যটকের দল।
এদিকে হাফলং শহরে বহিঃরাজ্যের পর্যটকদের সঙ্গে হোম স্টের স্বত্বাধিকারী স্বরাজ পালের এ ধরনের অভব্য আচরণের খবর চাউর হলে হাফলং শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে, প্রায় সময় ‘আপনা ঘর’ নামের এই হোম স্টেতে পর্যটকরা আসার পর স্বত্বাধিকারী স্বরাজ পাল সুরামত্ত হয়ে পর্যটকদের সঙ্গে এভাবে অবভ্য আচরণে জড়িয়ে পড়েন। এর আগেও তিনি বহু পর্যটকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণে লিপ্ত হয়ে মাঝরাতে হোম স্টে থেকে বের করে দিয়েছেন বাইরে থেকে আগত পর্যটকদের।
হাফলং ক্যাব চালক অ্যাসোসিয়েশনও এ ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, বহু পর্যটকদের তারা এই হোম স্টেতে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু এক রাতের বেশি বহু পর্যটক সেখানে থাকতে পারেননি, এই হোম স্টের স্বত্বাধিকারীর অভব্য আচরণের দরুন, অভিযোগ ক্যাব চালক অ্যাসোসিয়েশনের।
তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠতে শুরু করেছে, ‘আপনা ঘর’ নামের হোম স্টের স্বত্বাধিকারী স্বরাজ পালের পর্যটকদের সঙ্গে এ ধরনে্র আশালীন আচরণে ডিমা হাসাও জেলার নাম খারাপ হচ্ছে। তাই এই হোম স্টে বন্ধ করে দিতে প্রসাশনকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি উঠেছে।
বাইরে থেকে আগত পর্যটকদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় এ নিয়ে হাফলং শহরে অবস্থিত হোটেল, লজ বা হোম স্টে কর্তৃপক্ষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে জেলা পর্যটন বিভাগকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডিমা হাসাও জেলা অসমের এক অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করার পর এখন পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে পাহাড়ি এই জেলায়। এতে যেমন পাহাড়ি জেলায় রোজগারের রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে, তেমনি হোটেল, লজ, হোম স্টের ব্যবস্যাও বেড়েছে। সেই সঙ্গে অটো চালক থেকে শুরু করে ক্যাব চালকদেরও রোজগার বেড়েছে। এমতাবস্থায় বাইরে থেকে আগত পর্যটদের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষ বা হোম স্টে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অভব্য আচরণে পর্যটকরা পাহাড়ি জেলায় আসতে ভয় করবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব