
দুর্গাপুর, ১৬ জানুয়ারি (হি. স.): নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া কার্যত বিশবাঁও জলে। বছরের পর বছর ধরে পুরোনো ঠিকাদারকেই নামমাত্র দরে টোল আদায়ের মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা ব্লকের রাজনীতি। কাঁকসার আমলাজোড়া এলাকায় দামোদর বালিঘাট সংলগ্ন রাস্তায় টোল আদায়ে স্বজনপোষন ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।
অভিযোগ, আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন দামোদর নদীর ঘাট থেকে বালি বহনকারী লরি ও ডাম্পার থেকে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর নতুন টেন্ডার ডাকা হয়নি। যদিও গত বছর ফেব্রুয়ারিতে একটি টেন্ডার ডাকা হয়েছিল, অভিযোগ অনুযায়ী তা দীর্ঘদিন না খুলেই রহস্যজনকভাবে বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর নতুন টেন্ডার ডাকার পরিবর্তে পুরোনো ঠিকাদারের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
জানা গেছে, আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন দামোদর নদীর একাধিক বৈধ বালিঘাট থেকে দৈনিক প্রায় ৪০০-৫০০ লরি ও ডাম্পার যাতায়াত করে। লরি-পিছু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হারে টোল আদায় হওয়ায় দৈনিক আনুমানিক ৭০-৮০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বছরে মাত্র ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ১৮৫ টাকার বিনিময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা সেখ সাইফুলউদ্দীনকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় দুর্নীতি ও স্বজনপোষনের অভিযোগ তুলে বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, “রাজ্যের সরকার দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। মুখ্যমন্ত্রী আর্থিক সংকটের কথা বললেও লাভজনক টোল আদায়ে বছরের পর বছর স্বচ্ছ টেন্ডার ডাকা হচ্ছে না। প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে নামমাত্র দরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নীচুতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত কাটমানির রফা রয়েছে বলেই টেন্ডার এড়ানো হচ্ছে। অবিলম্বে নতুন টেন্ডার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি নব সামন্ত। তিনি বলেন, “আগে টেন্ডার হয়েছিল, কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা খোলা যায়নি। খুব শীঘ্রই নতুন করে টেন্ডার ডাকা হবে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা