স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করলে সমাজ আরও শক্তিশালী হবে : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি (হি.স.) : সমাজে যুবকদের যত বেশি স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় পরিচালিত করা যাবে, সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বিভেদহীন ও বলিষ্ঠ ভারত গঠনের স্বপ্ন নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ দেশের যুবসমাজকে জাতীয়তাবোধ ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ করেছিলে
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা


আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি (হি.স.) : সমাজে যুবকদের যত বেশি স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারায় পরিচালিত করা যাবে, সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বিভেদহীন ও বলিষ্ঠ ভারত গঠনের স্বপ্ন নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ দেশের যুবসমাজকে জাতীয়তাবোধ ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিলেন। স্বামীজী ভারতের গর্ব ও বিস্ময়—এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

শুক্রবার আগরতলায় গাঙ্গাইল রোডস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের সিটি সেন্টারে স্বামী বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তি স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বামীজী বলেছেন—কাজের বিকল্প নেই। মানুষের সেবায় যত বেশি কাজ করা যাবে, ততই আত্মতৃপ্তি মিলবে।” তিনি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের মানসিক মেধা, শিক্ষা ও শ্রমশক্তির সমন্বয়ে শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন, যাতে ভারতকে শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিবেকানন্দকে জানলে ভারতকেও জানা যায়। ভারতীয় সংস্কৃতির মূল মন্ত্র বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য।” পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কিছু দিক যুবসমাজকে গ্রাস করায় ঐতিহ্য ও পরম্পরা হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি রক্ষা করে পাশ্চাত্যের ভালো দিক গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত সরকার ছাত্র-যুবদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

রামকৃষ্ণ মিশনকে দেশের অন্যতম আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মিশন উৎকৃষ্ট মানের শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলছে। রাজ্যের জনজাতি সমাজে শিক্ষা প্রসারেও রামকৃষ্ণ মিশনের বিশেষ অবদান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুভিরানন্দজী মহারাজ বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ একজন বিশ্বগুরু। রামকৃষ্ণ মিশনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহায়তা প্রদান করেছিলেন। সমাজকে স্বচ্ছ ও সুন্দর রাখতে ছাত্র-যুবদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের চর্চা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এই মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ স্বামীজীর আদর্শে আরও অনুপ্রাণিত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক শুভকারানন্দজী মহারাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande