
আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি (হি.স.) : মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বাঙালি সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের প্রতীক পিঠেপুলি উৎসবের উদ্বোধন হল আগরতলার বল্লভপুর স্কুল প্রাঙ্গণে। ডুকলি আর.ডি. ব্লকের উদ্যোগে আয়োজিত এই ৭ দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, মকর সংক্রান্তির দিন সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়, পুরাণ মতে এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ১০টি সরকারি প্রদর্শনী স্টলসহ মোট ১০২টি স্টল খোলা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে যে সকল উৎসব পালিত হয়, তার কোনটিই কাকতালীয় নয়। প্রতিটি উৎসবই প্রকৃতি ও কৃষির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। আমাদের পূর্বপুরুষরা সুচিন্তিতভাবে বছরের বিভিন্ন সময় উৎসব পালনের মাধ্যমে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবতাবোধ জাগ্রত রাখার প্রয়াস নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকরা শুধু খাদ্য উৎপাদক নন, তারাই সভ্যতার ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আধুনিক হওয়া ভাল, কিন্তু নিজের শিকড়কে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার নবীন প্রজন্মকে ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত করাতে বছরব্যাপী এই ধরনের উৎসবের আয়োজন করছে।
কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, বিশ্বায়নের প্রভাবে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে এবং নবীন প্রজন্ম ফাস্ট ফুডে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অথচ আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস, যা পরিবেশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে গড়ে উঠেছে, সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক—এই উপলব্ধি এমন উৎসবের মধ্য দিয়েই গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন, পিঠেপুলি উৎসব বাঙালি হিন্দুদের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। পিঠেপুলির মত ঐতিহ্যবাহী খাদ্যকে নবীন প্রজন্মের কাছে আবার জনপ্রিয় করে তুলতেই এই ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন মেলায় গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারী স্বসহায়ক দলগুলির মধ্যে থেকে প্রতিদিন সেরা তিনটি দলকে পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, ফাস্ট ফুডের যুগে আমাদের ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে ধরে রাখার জন্য পিঠেপুলি উৎসবের মত আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষকে স্বরোজগারির সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে, যার লক্ষ্য মানুষের সামগ্রিক বিকাশের মাধ্যমে ‘শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে তোলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডুকলি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান ভুলন সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার, ডুকলি আর.ডি. ব্লকের বিডিও মানিক দেববর্মা প্রমুখ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ