
বহরমপুর, ১৭ জানুয়ারি (হি. স.) : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রতিক অশান্তির নেপথ্যে বিজেপি এবং এক নতুন ‘গদ্দার’-এর গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বহরমপুরে রোড শো শেষে মোহনা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তদন্তে উঠে এসেছে যে এই ঘটনার পেছনে বিজেপি কর্মীরা ইন্ধন জোগাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি নাম না করে এক স্থানীয় নেতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, এখানে এক নতুন ‘গদ্দার’ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, তিনি যদি নিজে বহরমপুরে না আসতেন, তবে এই অশুভ শক্তিরা আরও বেশি প্রশ্রয় পেত। যদিও তিনি কারও নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি, তবে তৃণমূলের রাজনৈতিক সূত্র দাবি করছে যে অভিষেকের নিশানায় ছিলেন রেজিনগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বিরোধী দলনেতার পর এই দ্বিতীয় ‘গদ্দার’-এর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পথে লড়াই করার এবং ধর্মীয় উস্কানির বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেলডাঙার বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। শুক্রবার থেকে জাতীয় সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করা এবং পুলিশের কিয়স্ক ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে। শনিবারও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। এই উত্তপ্ত আবহে স্থানীয় নেতৃত্ব তাঁকে কর্মসূচি স্থগিত করার অনুরোধ করলেও অভিষেক তা না করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু প্রসঙ্গে অভিষেক জানান যে, ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃত আলাউদ্দিন শেখের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং তাঁর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। গত লোকসভা নির্বাচনে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে ইউসুফ পাঠানের জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি মুর্শিদাবাদকে দুর্বল করবে এবং তাতে বিজেপিরই ফায়দা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্বে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি একে ‘নির্যাতন কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে মালদা ও মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু মানুষদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। এলাকার মানুষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো বুথেই যেন বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতি স্থান না পায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি