
আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি ও সুশাসনের ক্ষেত্রে নীতি গ্রহণে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পথপ্রদর্শক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুশাসনের নিরিখে ত্রিপুরা দেশের সপ্তম ‘ফ্রন্ট রানার স্টেট’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় আগরতলায় প্রজ্ঞাভবনে সুশাসন দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুশাসন হল রাজ্য ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা তৈরির একটি প্রক্রিয়া। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতা এবং ফলপ্রসূ পরিষেবা প্রদান—এই তিনের সমন্বয়ই সুশাসন। তিনি জানান, ত্রিপুরা সরকার সচেতনভাবে সুশাসনকে উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও ধারাবাহিক সংস্কার ছাড়া টেকসই রূপান্তর সম্ভব নয়।
তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর দৃষ্টিভঙ্গির কথা, যিনি শাসনকে মানবিকতা, সংবেদনশীলতা ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের আগস্টে রাজ্যে সুশাসন বিভাগ গঠিত হয় এবং একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর নীতি আয়োগের সহায়তায় ‘ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন’ (টিআইএফটি) চালু হয়। নীতি আয়োগ দেশের সাতটি অগ্রণী রাজ্য থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মধ্যে টিআইএফটি-কে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, টিআইএফটি নীতি প্রণয়ন, সংস্কার, প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জেলা সুশাসন সূচক চালুর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক কর্মক্ষমতা পরিমাপ করা হবে, যা সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে। স্টার্টআপ নীতি, দক্ষতা উন্নয়ন, পিপিপি প্রকল্প, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রেও টিআইএফটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, রাজ্য পুলিশের ডিজি অনুরাগ, সুশাসন দফতরের সচিব কিরণ গিত্তে বক্তব্য রাখেন। মুখ্যমন্ত্রী টিআইএফটি-এর নিউজলেটার ও রিপোর্ট কার্ডের আবরণ উন্মোচন করেন এবং উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য আধিকারিকদের সম্বর্ধনা জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ