পর্যটন, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি দেবে বন্দেভারত স্লিপার ট্রেন : রাজ্যপাল
গুয়াহাটি, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : পর্যটন, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি দেবে ভারতীয় রেলের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দেভারত স্লিপার ট্রেন, বলেছেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য। আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মালদা টাউন থেকে প্রধানমন্ত্র
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য


কামাখ্যা রেলস্টেশনে বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের খণ্ড চিত্র


গুয়াহাটি, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : পর্যটন, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি দেবে ভারতীয় রেলের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দেভারত স্লিপার ট্রেন, বলেছেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য। আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মালদা টাউন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঐতিহাসিক এই ট্রেনের শুভ সূচনা করেছেন।

আজ গুয়াহাটির পার্শ্ববর্তী কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশনে বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কামাখ্যা স্টেশনে অন্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় বিদেশ ও বস্ত্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি, সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, প্রদান বরুয়া, ভুবনেশ্বর কলিতা, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব সহ রেলওয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক এবং বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য। বক্তব্যে রাজ্যপাল এই ট্রেনের উদ্বোধনকে গভীর আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করে ভারতীয় রেলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মা কামাখ্যার পবিত্র ভূমি থেকে যখন বন্দে ভারত স্লিপারের মতো একটি অত্যাধুনিক ট্রেন যাত্রা শুরু করে, তখন তা শক্তিশালীভাবে বার্তা দেয় যে ভারতের অগ্রগতি কখনও তার শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

রাজ্যপাল বলেন, গুয়াহাটি ও হাওড়ার মধ্যে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘উন্নয়ন ও ঐতিহ্য’-এর দৃষ্টিভঙ্গির এক জীবন্ত উদাহরণ, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এগিয়ে চলে।

তিনি আরও বলেন, কামাখ্যা থেকে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন আধুনিক ভারতের অগ্রগতি, আত্মবিশ্বাস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের এক শক্তিশালী প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উত্তরপূর্ব ভারতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ স্নেহ ও অঙ্গীকার বাস্তব কাজ ও রূপান্তরমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে। এর উজ্জ্বল উদাহরণ এই ট্রেন পরিষেবা।

লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য বলেন, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন ‘বিকশিত ভারত’-এর সেই স্বপ্নের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও প্রতিটি নাগরিক সমান গতিতে অগ্রসর হবে। এই ট্রেনটি কামাখ্যা ও কলকাতার মধ্যে প্রায় ৯৭২ কিলোমিটার পথ প্রায় ১৪ ঘণ্টায় অতিক্রম করবে, যা যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময় সাশ্রয়ী যাত্রার সুযোগ করে দেবে। তিনি যোগ করেন, এই পরিষেবা অসম ও সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যটন, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

অসমের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, অসম শুধু উত্তরপূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বারই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। তাই রাজ্যের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কৌশলগত উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী রেল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সাম্প্রতিককালে হয়বরগাঁও রেলস্টেশনের উদ্বোধনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এটা রূপান্তরমূলক দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটি প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘সেফটি ফার্স্ট’ মন্ত্র অনুসরণ করে ভারতীয় রেল ‘কবচ’ নামে দেশীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং এবং হাতির নিরাপত্তার জন্য এআই-ভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে উন্নয়নের পাশাপাশি মানবজীবন ও পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।

অসমে রেল ও পরিকাঠামো উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. শৰ্মার নেতৃত্বে জনগণ-কেন্দ্রিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

লক্ষ্মণপ্ৰসাদ বলেন, ঐতিহ্য ও অগ্রগতি একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে অসমে। কামাখ্যার পবিত্র ভূমি থেকে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন সেই ভাবনাকেই সুন্দরভাবে প্রতিফলিত করে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই ট্রেনে অসমিয়া এবং বাঙালি রান্নার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা ‘অতিথি দেবো ভব’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’ ভাবধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande