
নয়াদিল্লি, ২ জানুয়ারি (হি.স.): রাজ্যসভার সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখলেন। সেখানে তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল ‘গ্রোক’-এর অপব্যবহার নিয়ে| তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু ব্যবহারকারী এই এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নারীদের ছবি থেকে পোশাক সরানো বা কমানোর মতো অশ্লীল ও আপত্তিকর কাজ করছে, যা নারীর মর্যাদা ও গোপনীয়তার সরাসরি লঙ্ঘন।
চিঠিতে শিবসেনা এই নেত্রী জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি “নতুন ও ভয়ঙ্কর প্রবণতা” তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশেষ করে এক্স প্ল্যাটফর্মে পুরুষরা এআই-এর সাহায্যে নারীদের ছবি যৌনভাবে বিকৃত করছে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি পোস্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে নারীরা নিজেরা যে ছবি পোস্ট করছেন, সেগুলোকেও টার্গেট করা হচ্ছে। এই ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এআই প্রযুক্তির চরম অপব্যবহার।
প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর অভিযোগ, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, গ্রোক এই ধরনের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই আচরণকে উৎসাহিত করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এটি নারীদের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন এবং তাদের ছবি অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের শামিল, যা শুধু অনৈতিকই নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের আড়ালে এভাবে প্রকাশ্যে নারীদের মর্যাদা ভঙ্গ করা হলে ভারত নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, যেন এক্স-এর বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং এআই-চালিত টুলগুলিতে শক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়, যাতে অনলাইনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। চিঠিতে প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রবণতা শুধু একটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ নয়; অন্যান্য বড় প্রযুক্তি সংস্থার ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁর মতে, যদি দ্রুত ও দৃঢ় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে নারীরা ক্রমশ এই প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে নারীদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ