
কলকাতা, ৪ জানুয়ারি ( হি. স.): তরুণ প্রজন্মের সার্বিক বিকাশ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সমাজ প্রকৃত বিকশিত হবে। আর সেই লক্ষ্যেই প্রতি বছরের মতো এবছরেও আশুতোষ কলেজের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হলো স্টুডেন্টস উইক সেলিব্রেশন। শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতাকে তুলে ধরার জন্য গোটা সপ্তাহ জুড়ে চলবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। এর সঙ্গে চলবে সাম্প্রতিক তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক আলোচনা পর্ব। ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই অনুষ্ঠান ।
আটদিন ব্যাপী এই উদযাপনের তৃতীয় দিন রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনা হলো মূলত সাইবার অপরাধ এবং তার থেকে রক্ষার উপায়। বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের রঞ্জন চক্রবর্তী।
আলোচনার শুরুতেই অধ্যাপক ডঃ রিমা রায় বলেন, বর্তমান যুগে দ্রুতগতিতে সমাজ মাধ্যমের বৃদ্ধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের জীবন । এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাদের সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিবছর কলেজের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় এই বিশেষ উদ্যোগ। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থাকা সুকুমারবৃত্তির যথাযথ বিকাশের পথকে সুগম করে তোলার জন্য গোটা সপ্তাহ জুড়ে কলেজে আয়োজন করা হয়েছে বেশ কিছু প্রতিযোগিতার। তাঁর বক্তব্যের রেশ টেনে অধ্যাপক রিনা করদত্ত বলেছেন, সমাজ মাধ্যম এখন আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বদা উচিত সাবধানতা অবলম্বন করা ।
এদিনের মূল বক্তা রঞ্জন চক্রবর্তী বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, সাইবার অপরাধ কতকটা মনস্তাত্ত্বিক খেলা। এক্ষেত্রে যুক্ত এক বা একাধিক ব্যক্তি দিনের পর দিন কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং তাঁর জীবনে ডেকে আনে সর্বনাশ। কখনও অনলাইন বিপণনের নামে ব্যক্তিগত তথ্য লোপাট কিংবা ব্যাংকের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকের বেশে ফোনের মাধ্যমে রাতারাতি পাচার হয়ে যায় সাধারণের কষ্টার্জিত অর্থ। এছাড়াও বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক বেড়েছে নিজেদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সমাজ মাধ্যমের সামনে নিয়ে আসা। একটি ছবি খুব অল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছে যায় লক্ষাধিক চেনা - অচেনা মানুষের ফিডে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা ছবিগুলির অপব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করে। অর্থ লোপাটের ক্ষেত্রে অনেকসময় অভিযোগকারী নিজের অর্থ ফিরে পান, তবে সেটা পুরোটাই নির্ভর করছে কোন সময় তাঁর সঙ্গে প্রতারণাটি হয়েছে। অনলাইন বেটিং অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, অযাচিত অ্যাপ ফোনে ডাউনলোড করার আগে কী কী সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজন, সেই বিষয়গুলিও উঠে এসেছে আলোচনায়। সবশেষে চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব| ভার্চুয়াল মাধ্যমে এপ্রান্তে থাকা শ্রোতারা কেউ নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরে, কেউবা আবার ভাগ করে নেয় নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা। এরপর সমাপনী সম্ভাষণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় আলোচনা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৃজিতা বসাক