
কলকাতা, ৪ জানুয়ারি (হি.স.): রামকৃষ্ণ মিশন স্বামী বিবেকানন্দের পৈতৃক আবাস এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মোৎসব উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ মিলন মেলার| পাশাপাশি আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত, নাটক এবং যুব সম্মেলন এমন বিভিন্ন অনুষ্ঠান পাঁচ দিন ধরে হবে| এর সূচনা হবে ৯ জানুয়ারি, চলবে চলতি মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত। এই মিলন মেলার আয়োজক বিবেকানন্দ পাঠচক্র| সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কার ভারতী পশ্চিমবঙ্গ। পাঁচ দিনের মেলায় সংস্কার ভারতীর বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন।
৯ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫ টায় বিবেকানন্দ পাঠচক্রের বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। উদ্বোধক রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সংঘাধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী বিমলাত্মানন্দ| আয়োজকদের তরফে জানা গেছে, এই দিনের অধিবেশনের সভাপতি: স্বামীজীর পৈতৃক আবাসের সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ| বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা, ব্যারিস্টার অ্যাট ল অনিন্দ্য কুমার মিত্র, পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রর অধিকর্তা ড. আশিস গিরি, ড. সায়ন ভট্টাচার্য সহ-অধিকর্তা, ভারতীয় সংগ্রহশালা, পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য স্বনামধন্য সন্তুর বাদক| স্বাগত ভাষণ দেবেন কর্ণেল সব্যসাচী বাগচী, তিনি সভাপতি, বিবেকানন্দ পাঠচক্রর| অখণ্ড বন্দেমাতরম গায়ন পরিবেশন করবেন ভরত কুণ্ডু| রয়েছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান| এদিনের কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশক: পণ্ডিত সন্দীপন সমাজপতি, হারমোনিয়াম: দেবাশিস অধিকারী, তবলা: রাজনারায়ণ ভট্টাচার্য, সন্তুরবাদন: পণ্ডিত শুদ্ধশীল চ্যাটার্জি, তবলা: বিভাস সাংহাই|
১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০ টায় একটি যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এদিনের প্রধান অতিথি: স্বামী সিদ্ধেশানন্দ অধ্যক্ষ, রামকৃষ্ণ মঠ কথামৃত ভবন| এদিনের বক্তাঃ ড. শুভম আমিন, সহ-অধ্যাপক, শ্রীরামকৃষ্ণ সারল বিদ্যামহাপীঠ, কামারপুকুর, হগলী| বক্তাদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রতীপ চক্রবর্তী, রূপম দে| বিকেল সাড়ে ৫ টায় আছে বিবেকানন্দ পাঠচক্রর সমবেত সঙ্গীত| অখণ্ড বন্দেমাতরম গায়ন পরিবেশন করবেন শিবেন্দ্র ত্রিপাঠী| ভক্তিগীতি পরিবেশন করবেন স্বামীজীর পৈতৃক আবাসের স্বামী স্তুতানন্দ| রয়েছে আলোচনা সভা| এই আলোচনা সভার মূল বিষয় স্বামী বিবেকানন্দ ও জাতীয়তাবোধ| বক্তা: MAKAIAS এর অধিকর্তা ড. সরূপ প্রসাদ ঘোষ| নৃত্যগীতি আলেখ্য পরিবেশন করবে সংস্কার ভারতী, উত্তর কলকাতা জেলা| পদাবলী কীর্ত্তন পরিবেশন করবেন নির্মলা ভট্টাচার্য ও সম্প্রদায়|
১১ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টা থেকে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, বিকেল সাড়ে ৫ টায় হবে সমবেত সঙ্গীত| পরিবেশনায় সংস্কার ভারতীর উত্তর ২৪ পরগণা জেলা| অখণ্ড বন্দেমাতরম গায়ন: দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়| রয়েছে অমিয় কুমার মজুমদার স্মারক বক্তৃতা| এর বিষয়ঃ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন : শ্রীসারদা মা ও ভগিনী নিবেদিতা| বক্তা: প্রব্রাজিকা অসক্তাপ্রাণা, শ্রীসারদা মঠ ও রামকৃষ্ণ সারদা মিশন| এই অধিবেশনের সভাপতি: বিবেকানন্দ পাঠচক্রর সহ-সভাপতি সুভাষ ভট্টাচার্য| এদিন রয়েছে সঙ্গীতানুষ্ঠান| গীতিআলেখ্য পরিবেশন করবেন তমাস রঞ্জন ব্যানার্জি ও সম্প্রদায়, মালদহ| আবৃত্তি পরিবেশন করবেন সঞ্চিতা সরকার, লোকগীতি পরিবেশন করবেন দিব্যেন্দু দাস বাউল, আর যোগাসন পরিবেশনে সিমলা ব্যায়াম সমিতি|
১২ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে সংস্কার ভারতী দক্ষিণ কলকাতা জেলার পরিবেশনায় সমবেত সঙ্গীত| অখণ্ড বন্দেমাতরম গায়ন: অমিত দে| রয়েছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান| গুণীজন সংবর্ধনা: পদ্মশ্রী পণ্ডিত রোনু মজুমদার| সারেঙ্গি বাদন: ঋষভ কোমল দে, তবলা: প্রণব কুণ্ডু, কণ্ঠসঙ্গীতঃ আঁকন মজুমদার, হারমোনিয়াম: শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু, তবলা: তরুণ বিশ্বাস, বংশীবাদন: সারণ্য সরকার, তবলা: কৌস্তুভ ধর, সরোদ বাদন: সৌর্য্যদীপ্ত ভট্টাচার্য্য, তবলা: সুরজিৎ সেনগুপ্ত|
১৩ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে হবে সংস্কার ভারতী, হাওড়া নগর জেলার পরিবেশনায় গীতিআলেখ্য| অখণ্ড বন্দেমাতরম গায়ন: তনুশ্রী মল্লিক| এদিনের প্রধান বক্তা: স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ সম্পাদক, স্বামীজীর পৈতৃক আবাস| বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা, সংস্কার ভারতী কেন্দ্রীয় সমিতির সম্পাদিকা নীলাঞ্জনা রায়, পল্লবী বসু দত্ত উপদেষ্টা, বিবেকানন্দ পাঠচক্র, এদিনের অধিবেশনের সভাপতি: ড. অনুপ গুপ্ত উপদেষ্টা, বিবেকানন্দ পাঠচক্র| বিবেক-প্রজ্ঞা বৃত্তি প্রদান করা হবে| সহযোগিতায়: গুরুমন্ত্র কালচারাল সোসাইটি| নৃত্যগীতি আলেখ্য পরিবেশন করবে বিবেকানন্দ পাঠচক্র| এদিন কেন চেয়ে আছো গো মা শীর্ষক নাটক পরিবেশন করা হবে| এর রচনা, সঙ্গীত ও পরিচালনা: অমিত দে| পরিবেশনায়: সংস্কার ভারতী নাট্যগোষ্ঠী|
এছাড়াও স্বামী বিবেকানন্দ জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে, ১০ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় পাঠচক্র ভবনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে। ১২ জানুয়ারি, সকাল ৯ টায়, জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে, স্বামীজি স্মৃতি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে| যা তাঁর পৈতৃক বাসভবনের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হবে।
আয়োজকরা বলেন, এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হল স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাভাবনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং যুবসমাজকে জাতীয় সেবা, মানবতা এবং আত্মবিশ্বাসের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ