
- নির্বাচনে অসমের সকল নাগরিককে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোটদানের আহ্বান
গুয়াহাটি, ১৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : বিহু অসমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার গুয়াহাটিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ভারতেরর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তিন দিনের অসম সফরে এসেছিলেন। দলে ছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সাঁধু এবং ড. বিবেক জোশি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল গত দু-দিন ধরে স্বীকৃত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ-প্রধান, জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং সিনিয়র পুলিশ সুপারদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করে তাঁদের মতামত গ্রহণ করেছে। এর পর আজ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘বিহু অসমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। তাই বিহুর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হবে।’ তিনি জানান, দিল্লিতে ফিরে পুনরায় বৈঠক করে খুব শীঘ্রই অসমের নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হবে। সবদিক বিবেচনা করেই তারিখ নির্ধারণ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বদাই ভোটারদের স্বার্থে নেওয়া হয়, বলেন তিনি।
অসমে এসআইআর-এর পরিবর্তে এসআর চালু করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, অসমে এনআরসির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনের আগে যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। সে জন্যই অসমে এসআর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, এবার ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটিং প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুব ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কলেজে এইআরও-রা প্রচার অভিযান চালাবেন। বিশেষ সক্ষম ভোটারদের জন্য ভূমিতলেই (গ্রাউন্ড ফ্লোর) ভোটকেন্দ্র রাখা হবে এবং হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি এবার হোম ভোটিং ব্যবস্থাও চালু থাকবে বলে জানান জ্ঞানেশ কুমার।
জানান, ভোটের সময় ভোটকেন্দ্রের বাইরে মোবাইল ফোন জমা রেখে ভোটদান শেষে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ইভিএম-এ ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রার্থীর রঙিন ছবি এবং প্রার্থীর নাম বড় অক্ষরে লেখা থাকবে, যাতে ভোটারদের কোনও অসুবিধা না হয়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ওয়েব কাস্টিং করা হবে।
প্রত্যেক বিএলও-কে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটাররা সহজেই তাঁদের চিনতে পারেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সকলকে ‘ইসি আই নেট’ অ্যাপ ডাউনলোড করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচনের সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে।
ভোটার ইনফরমেশন স্লিপকে তিনি ভোটদানের আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এবার বড় বক্সের মধ্যে বুথের নাম সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
এছাড়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ভোটকেন্দ্রে ১,২০০ জনের বেশি ভোটার থাকবেন না। জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং সিনিয়র পুলিশ সুপারদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ওপর নজর রাখতে হবে এবং বিশেষ সক্ষম ভোটারদের জন্য যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফেক নিউজ থেকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে অসমেরক সকল নাগরিককে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোটদানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বক্তব্যের শুরুতে অসমিয়ায় ভাষণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে বিহু আনন্দ ও উল্লাসে উদযাপন করি, সেভাবেই গণতন্ত্রের এই মহা-উৎসবও উদযাপন করা উচিত।’
জ্ঞানেশ কুমার আরও জানান, অসমে এসআর প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য ছিল অযোগ্য ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। এবার রাজ্যে ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। ভোটার সংক্রান্ত প্রায় ৫০০টি অসংগতির অভিযোগ এসেছে। এসআর প্রক্রিয়ায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এবার রাজ্যে মোট ৩১,৪৮৬টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকবে। এর মধ্যে ২৭,৭১১টি গ্রামীণ এলাকায় এবং ৩,৭৭৫টি শহরাঞ্চলে অবস্থিত। ৩,৭১৬টি মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র থাকবে। কোনও ভোটকেন্দ্রে ১,২০০ জনের বেশি ভোটার থাকবেন না। প্রতিটি কেন্দ্রে পানীয় জল, শৌচাগার, হুইলচেয়ার সহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস