মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্বের হাতে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে নতুন সমন্বিত টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সূচনা
গুয়াহাটি, ২২ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : জিৎ আদানিকে সঙ্গে নিয়ে গুয়াহাটির বড়ঝাড়ে অবস্থিত গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন সমন্বিত টার্মিনালের আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সূচনা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। এর মাধ্যমে
জিৎ আদানির সঙ্গে লাল ফিতা কেটে উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার


নতুন সমন্বিত টার্মিনালে জিৎ আদানির সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা


গুয়াহাটি, ২২ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : জিৎ আদানিকে সঙ্গে নিয়ে গুয়াহাটির বড়ঝাড়ে অবস্থিত গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন সমন্বিত টার্মিনালের আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সূচনা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। এর মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে বিমান পরিকাঠামো সম্প্রসারণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো।

প্রসঙ্গত, নবনির্মিত এই টার্মিনালটি গত বছর ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করেছিলেন। আজ রবিবারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সূচনা অনুষ্ঠানটি ছিল নতুন টার্মিনাল থেকে যাত্রী পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর উপলক্ষ্যে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের সঙ্গে ছিলেন বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড-এর প্রতিনিধি সহ একাধিক শীর্ষ আধিকরিকরা। প্রথম যাত্রীর হাতে একটি স্মারক বোর্ডিং পাস তুলে দেওয়া হয়েছে আজ। একইসঙ্গে আজ মুম্বাই থেকে আগত আকাশা এয়ার-এর একটি বিমান নতুন টার্মিনালে অবতরণ করেছে। আগমন প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।

নতুন টার্মিনাল চালু হওয়ার ফলে বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩১ লক্ষে (১৩.১ মিলিয়ন)। এর ফলে গুয়াহাটি উত্তরপূর্ব ভারতের প্রধান বিমান প্রবেশদ্বার হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং মূল ভূখণ্ড ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি ২১টি দেশীয় গন্তব্য এবং তিনটি আন্তর্জাতিক শহর ব্যাংকক, পারো এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সংযুক্ত। প্রতিদিন এখানে ১৩০টির বেশি বিমান ওঠানামা করে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিষেবা শুরুর আগে ধাপে ধাপে একাধিক সিস্টেম যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল চেক-ইন, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, বিমান ঘুরিয়ে প্রস্তুতকরণ, এয়ারলাইন্স সমন্বয় এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া। বর্তমানে ডিজি যাত্রা-সক্ষম প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা, সমন্বিত দিকনির্দেশনা পদ্ধতি এবং কেন্দ্রীভূত যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে।

বাংলাদেশি স্থপতি নুরু করিমের নকশায় নির্মিত এই টার্মিনালটি অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে। নকশায় কপৌ ফুল (ফক্সটেইল অর্কিড) থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে এবং ব্যবহৃত হয়েছে ১৪০ মেট্রিক টনেরও বেশি বাঁশ। উত্তরপূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্পকর্মের ছাপও এতে স্পষ্ট।

বর্ধিত এই টার্মিনাল ভবিষ্যতে নতুন রুট চালু, ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি অঞ্চলের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande