জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ, ‘শান্তি ও নিরাপত্তা ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার’
।। রাজীব দে ।। ঢাকা, ১৮ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহম
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


।। রাজীব দে ।।

ঢাকা, ১৮ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার রাত পৌনে ১০টায় জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে স্পষ্ট বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় কোনও প্রভাব বা জোর-জবরদস্তি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর-জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা হবে।’

বিগত শাসন আমলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়কালে সংগঠিত দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে।’

বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তারেক রহমান বলেন, ‘ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাসাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চায়।’

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যে কোনও গঠনমূলক পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সদা প্রস্তুত। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।’

সরকার পরিচালনায় মিতব্যয়িতা বা কৃচ্ছ্রতাসাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রতাসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি নিজের দল থেকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপি-র সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের কোনও সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষে বলেন, ‘‘আমি কথা দিয়েছিলাম রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মহানবীর (সা.) ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করব। বিএনপি-র সংসদীয় দলের এই সিদ্ধান্তগুলো সেই আদর্শেরই প্রতিফলন।’

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande