
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাষ্ট্রপতির
।। রাজীব দে ।।
ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষাশহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী জনগণ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন। শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পার্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মরণ করেন তিনি। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে, সৃষ্টি হয় শোক ও ভাবগাম্ভীর্যের পরিবেশ।
এর আগে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছেন। রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে শহিদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে বাংলাদেশের মহান ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী জনগণ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন। এক শুভেচ্ছাবাৰ্তায় রাষ্ট্রপতি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষা বাংলার অধিকার আদায়ে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউর সহ নাম না জানা সকল শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও আপামর জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার আদায় করেছিল। তিনি বলেন, ‘মূলত ভাষা আন্দোলন ছিল নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলন। আমাদের স্বাধিকার, মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অমর একুশের চেতনায় জুগিয়েছে অফুরন্ত প্রেরণা ও অসীম সাহস।’
১৯৯৯ সালে ইউনেসকো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটি জাতি হিসেবে আমাদের অন্যতম গৌরবময় অর্জন। অমর একুশের চেতনা আজ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শুভেচ্ছাবাৰ্তায় রাষ্ট্রপতি বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা ও মান সংরক্ষণে আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলা ভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন ভাষার ওপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্ৰপতির প্রত্যাশা, মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত হবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস