
দুর্গাপুর, ১৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের সঠিক রূপায়ণের দাবিতে জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল আদিবাসী সমাজ। বুধবার আসানসোল সার্কিট হাউসে কমিশনের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা, জামুড়িয়া ও দুর্গাপুর এলাকার আদিবাসী প্রতিনিধিরা এই স্মারকলিপি তুলে দেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সংঘটিত ভোট-পরবর্তী হিংসার স্মৃতি এখনও দগদগে বলে অভিযোগ আদিবাসী সমাজের। বিশেষ করে আউশগ্রাম এলাকার দেবশালার কাঁকোড়া আদিবাসী গ্রামে সেই সময় ব্যাপক হিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে বহু পরিবার জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার মানসিক ক্ষত এখনও কাটেনি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
অভিযোগ, ওই গ্রামে এখনও রাস্তা সংস্কার হয়নি, পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। গ্রীষ্মের আগেই জলসঙ্কট চরম আকার ধারণ করে। প্রশাসনের একাধিক দফতরে অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে আদিবাসী বাসিন্দাদের বক্তব্য।
এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য সফরে এসে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার পশ্চিম বর্ধমানে রিভিউ মিটিং করেন জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশন-এর চেয়ারপার্সন আশা লাকড়া। প্রথমে তিনি জেলার বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন, পরে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে সুশীল টুডু, শুকু মাঝি, শান্ত মুর্মু-সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা মোট ১০ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—
আদিবাসী গ্রামে আবাস যোজনা ও স্বচ্ছ ভারত মিশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
উজ্জ্বলা যোজনার গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা।
জলজীবন প্রকল্পে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা।
শিল্পাঞ্চলে দূষণের ফলে সিলিকোসিসে আক্রান্ত আদিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা।
খনি ধসপ্রবণ এলাকায় পুনর্বাসন।
তফসিলি জনজাতি শংসাপত্র জালিয়াতি রোধ।
সরকারি ও বেসরকারি শিল্পে আদিবাসী যুবক-যুবতীদের নিয়োগ।
আদিবাসী আবাসিক বিদ্যালয় ও একলব্য স্কুলে পরিকাঠামো উন্নয়ন।
প্রতিভাবান আদিবাসী ক্রীড়াবিদদের সরকারি চাকরিতে সুযোগ।
এছাড়াও আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন ও ফলাফল ঘোষণার পর অন্তত তিন মাস আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আধাসেনা মোতায়েন করে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। কমিশনের চেয়ারপার্সন আশা লাকড়া জানান, আদিবাসী সমাজের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতেই এই রিভিউ মিটিং। সংগঠনের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা