গুয়াহাটিতে নতুন ৮২টি ‘১০৮ মৃত্যুঞ্জয়’ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধন মন্ত্রী অশোক সিংঘলের
গুয়াহাটি (অসম), ২২ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসম সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং জলসেচ দফতরের মন্ত্রী অশোক সিংঘল আজ গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে নতুনভাবে সংযোজিত ৮২টি ‘১০৮ মৃত্যুঞ্জয়’ অ্
গুয়াহাটিতে নতুন ৮২টি ‘১০৮ মৃত্যুঞ্জয়’ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উদ্বোধন মন্ত্রী অশোক সিংঘলের


গুয়াহাটি (অসম), ২২ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসম সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং জলসেচ দফতরের মন্ত্রী অশোক সিংঘল আজ গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে নতুনভাবে সংযোজিত ৮২টি ‘১০৮ মৃত্যুঞ্জয়’ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এর মধ্যে ৪০টি অ্যাডভান্সড লাইফ সাপোর্ট (এএলএস) এবং ৪২টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।

অনুষ্ঠানে পেশ করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আজ অসমের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। রাজ্যের মানুষের জন্য ৮২টি নতুন ১০৮ মৃত্যুঞ্জয় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, আগে প্রায় ৮০০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৭৭৬টি ছিল বেসিক লাইফ সাপোর্ট সুবিধাযুক্ত, ১৪টি ছিল অ্যাডভান্সড লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসম্পন্ন এবং তিনটি ছিল নৌ-অ্যাম্বুলেন্স।

মন্ত্রী বলেন, আগে পর্যাপ্ত অ্যাডভান্সড লাইফ সাপোর্ট না থাকায় অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠত। রোগীদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পৌঁছাতে গড়ে প্রায় ১৪ মিনিট সময় লাগত। তবে গত দশ বছরে বিজেপি সরকারের আমলে রাস্তা, সেতু প্রভৃতি অবকাঠামোর উন্নয়নের ফলে সেই সময় কমে এসেছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করে এই সময়সীমা ১০ মিনিটে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে রোগীদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া রাজ্যে নতুন নতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাস্তা ও সেতু নির্মাণের ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম আরও সহজ হয়েছে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৭১ লক্ষ রোগী এই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।

জিপিএস-সজ্জিত এই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও কল সেন্টার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিষেবার মান উন্নত করতে মাইক্রো স্তরেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, প্রায়ই অভিযোগ ওঠে, দরিদ্র রোগীদের ব্যক্তিগত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেন যে রোগীর অনুমতি ছাড়া যেন কাউকে ব্যক্তিগত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া না হয় এবং এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অসমের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। তাই তিনি সাধারণ মানুষকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানান।

১০৮ মৃত্যুঞ্জয় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার চালক ও কর্মীদের প্রশংসা করে মন্ত্রী তাঁদের অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনগুলোতেও মানবিক মনোভাব নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে পরিষেবা দিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের কমিশনার-সচিব ড. পি অশোক বাবু, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (অসম)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. লক্ষ্মণন এস এবং চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের অধিকর্তা ডা. মনোজ কুমার চৌধুরী সহ বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande