'শি-বক্স' পোর্টাল নিয়ে আগরতলায় কর্মশালা, নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে জোর মন্ত্রী টিংকু রায়ের
আগরতলা, ১৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বুধবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে ''শি-বক্স'' (সেক্সচুয়াল হেরাসমেন্ট ইলেক্ট্রনিক বক্স) পোর্টাল বিষয়ক রাজ্যস্তরের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থি
মন্ত্রী টিংকু রায়


আগরতলা, ১৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বুধবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে 'শি-বক্স' (সেক্সচুয়াল হেরাসমেন্ট ইলেক্ট্রনিক বক্স) পোর্টাল বিষয়ক রাজ্যস্তরের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সমাজকল্যাণ ও সামাজিক শিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায় মহিলাদের মর্যাদা রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

মন্ত্রী জানান, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে তৈরি 'শি-বক্স' (সেক্সচুয়াল হেরাসমেন্ট ইলেক্ট্রনিক বক্স) পোর্টাল২০১৩ সালের ‘পোশ’ আইনের আওতায় কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির অভিযোগ নথিভুক্ত করার জন্য একটি কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। সম্প্রতি আপগ্রেড হওয়া এই পোর্টালে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে এবং সংগঠিত ও অসংগঠিত—উভয় ক্ষেত্রের অভিযোগ পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রিপুরায় ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন -এর মাধ্যমে মহিলাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের জন্য গত কয়েক বছরে প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে, যাতে তারা স্থায়ী জীবিকা অর্জন করতে পারেন।

তিনি ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত ‘শি-মার্টস’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি সম্প্রদায়ভিত্তিক খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে। সেখানে হস্তশিল্প, কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য সরাসরি গ্রাহকদের কাছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে এবং ‘লাখপতি দিদি’ কর্মসূচির সাফল্যের ভিত্তিতে মহিলাদের বার্ষিক অন্তত এক লক্ষ টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মশালায় নোডাল অফিসার, মানবসম্পদ পেশাদার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির সদস্যদের পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ নথিভুক্ত ও ট্র্যাকিং পদ্ধতি, ১০ বা তার বেশি কর্মচারীযুক্ত প্রতিষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব এবং যৌন হয়রানি প্রতিকার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং ভয়-বৈষম্যমুক্ত কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা, বিশেষ সচিব তপন কুমার দাসসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, এই কর্মশালা শুধু আইনি সচেতনতা নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়নের বৃহত্তর লক্ষ্যকেও আরও শক্তিশালী করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande