
কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) সার্ভিসে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের ক্ষেত্রে সংশোধনের সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপগুলোকে ঐতিহাসিক সংস্কার হিসেবে তুলে ধরে আসলে আধিকারিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এই সংস্কারগুলো অত্যন্ত নগণ্য এবং তা কার্যকর করতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
বিজেপি নেতার দাবি, সরকার ছোটখাটো প্রশাসনিক পরিবর্তনকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখাচ্ছে, অথচ বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা মূল সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), পদোন্নতিতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলোর সমাধান না করে এই ধরণের ঘোষণা কেবলই লোক দেখানো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিএ প্রসঙ্গে মালব্য জানান, বকেয়া ডিএ না পাওয়ায় ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাঁর হিসেব অনুযায়ী, একজন এন্ট্রি-লেভেলের আধিকারিকের বছরে প্রায় ২.৮২ লক্ষ টাকা এবং স্পেশাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার আধিকারিকের বার্ষিক প্রায় ৮.৮৮ লক্ষ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এই মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে সংস্কারের কথা বলা অর্থহীন।
আইএএস পদে পদোন্নতি নিয়েও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। মালব্যর অভিযোগ, উত্তর প্রদেশ, বিহার বা গুজরাটের মতো রাজ্যে রাজ্য সিভিল সার্ভিসের আধিকারিকরা ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে আইএএস হতে পারেন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের অপেক্ষা করতে হয় ২৬ থেকে ২৭ বছর, যা বর্তমানে বেড়ে ৩০-৩২ বছরে পৌঁছেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ১৯৯২-৯৩ ব্যাচের আধিকারিকরা ২০২৫ সালে আইএএস পদে উন্নীত হয়েছেন, যার ফলে অনেকে পদোন্নতির কয়েক মাসের মধ্যেই অবসর গ্রহণ করছেন এবং কোনও প্রকৃত আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। ৫৬ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক যোগ্য আধিকারিক এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্যাডার কাঠামো নিয়ে রাজ্য সরকারের দাবিকেও নস্যাৎ করেছেন মালব্য। তিনি জানান, ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার আধিকারিক বিডিও হিসেবে কাজ করছেন এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি সমমর্যাদার জেলাশাসকের অধীনে এডিএম হিসেবে কাজ করছেন, যা প্রশাসনিক কাঠামোর এক বড় বৈপরীত্য। এসডিও হিসেবে পোস্টিংকে পদোন্নতি হিসেবে প্রচার করাটাকেও তিনি বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন।
পরিশেষে অমিত মালব্যর অভিযোগ, প্রশাসনিক কাজকর্মে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং খামখেয়ালি বদলি ও পোস্টিংয়ের ফলে আধিকারিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তাঁর মতে, যতক্ষণ না বকেয়া ডিএ প্রদান, পদোন্নতি প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং প্রকৃত ক্যাডার সংস্কার করা হচ্ছে, ততক্ষণ এই অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের কোনও সুরাহা দিতে পারবে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি