আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন পরেও হয়নি শনাক্তকরণ, এখনও প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার
কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও মৃতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলো এখনও তাঁদের প্রিয়জনদের শেষ অবশেষটুকু পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এরই মধ্যে র
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন পরেও হয়নি শনাক্তকরণ, এখনও প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার


কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি

(হি. স.) : আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ২৪ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও

মৃতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলো এখনও তাঁদের প্রিয়জনদের

শেষ অবশেষটুকু পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ১০ লক্ষ

টাকার আর্থিক সাহায্য ২৭টি পরিবারের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। তবে সরকারিভাবে মৃত্যুর

শংসাপত্র বা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই এভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের

মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে। পাশাপাশি, পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় শেষকৃত্য

সম্পন্ন করা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

রাজ্য সরকার অগ্নিকাণ্ডের পরপরই মৃতদের

পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। ভস্মীভূত গুদামগুলোর মধ্যে

একটি ছিল ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থার। সেই সংস্থাও তাদের তিন কর্মীর পরিবারকে আলাদাভাবে

আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের

মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে

আইনিভাবে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগেই এই ক্ষতিপূরণ প্রদান নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও

গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া

দেহাবশেষগুলো এতটাই দগ্ধ যে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

ফরেন্সিক বিভাগের সঙ্গে পুলিশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও এই ধরণের পরীক্ষায় অতিরিক্ত

সময় লাগে। ফলে ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় থমকে আছে গোটা প্রক্রিয়া।

এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার

করেছে। গুদামের মালিক গঙ্গাধর ছাড়াও ‘ওয়াও মোমো’ গুদামের ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট

এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। আগুন

লাগার সময় মাত্র দুজন কর্মচারী কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিলেন, পুলিশ

তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করেছে। এছাড়া সংস্থার অফিস মালিক ও অন্য কর্মীদেরও

জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ডিএনএ রিপোর্ট কবে আসবে, সে বিষয়ে এখনও

কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে মেদিনীপুরের নিরঞ্জন মণ্ডল এবং

ঝাড়গ্রামের রবীশ হাঁসদার পরিবারে এখনও শোকের ছায়া। তাঁদের বাড়িতে উনুন জ্বলছে না,

আত্মীয়দের

বাড়ি থেকে খাবার আসছে। মেদিনীপুরের দেবদিত্য দিন্ডার পরিবারও হাতে ক্ষতিপূরণের চেক

পেলেও প্রিয়জনের মৃত্যু নিয়ে সরকারি নিশ্চিত বার্তার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande