
গুয়াহাটি, ১৯ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস), এনএফ সার্কল, সুমিত সিংঘল মুরকংসেলেক-সিল্লে (১৫.৭০ কিলোমিটার) নবনির্মিত বিজি লাইন সেকশনে ট্রেন চলাচলের অনুমোদন প্রদান করেছেন। সফল পরিদর্শন এবং স্পিড ট্রায়ালের পর সিআরএস ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতিতে এই রুটে ট্রেন চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যার ফলে এই অঞ্চলে উন্নত সংযোগের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা আজ আজ বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়ে জানান, এই সেকশনটি মুরকংসেলেক এবং পাসিঘাটের মধ্যে চলমান ২৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেল লাইন প্রকল্পের একটি অংশ, যা অরুণাচল প্রদেশের সাথে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ। ২৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের মুরকংসেলেক-পাসিঘাট নতুন রেললাইনটি অসমের মুরকংসেলেক থেকে অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। নবনির্মিত এই লাইনটি অদূর ভবিষ্যতে ওই রুট দিয়ে আরও বেশি মালবাহী এবং যাত্রী পরিবহণের জন্য সহায়ক হবে। এই প্রকল্পে তিনটি নতুন উন্নত স্টেশন যেমন সিল্লে, লাবো ও পাসিঘাট এবং ২৭টি প্রধান ব্রিজ রয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ হারমতি থেকে নাহরলগুন রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত একটি নতুন লাইন চালু হওয়ার মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ন্যাশনাল ব্রড-গেজ রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হয়েছ। এই মাইলফলকটি অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরকে প্রথমবারের মতো ভারতের ব্রড-গেজ মানচিত্রে নিয়ে আসে। হারমতি-নাহরলগুন রুটে যাত্রী পরিষেবা ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল শুরু হয়েছিল, যা আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি প্রদান করে। এই লিংককে আরও শক্তিশালী করে, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নাহরলগুন-নিউদিল্লি এসি এক্সপ্রেস চালু করা হয়। যার ফলে অরুণাচল প্রদেশকে জাতীয় রাজধানীর সাথে প্রথম সরাসরি রেল সংযোগ উপলব্ধ হয়।
মুরকংসেলেক-পাসিঘাট নতুন রেল লাইন প্রকল্পটি অরুণাচল প্রদেশ, অসম এবং দেশের বাকি অংশের মধ্যে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। একবার সম্পন্ন হলে, নতুন লাইনটি রঙিয়া-মুরকংসেলেক রুট এবং বগিবিল ব্রিজের মাধ্যমে পাসিঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বের রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ করবে, যা এই অঞ্চলকে প্রধান গন্তব্যস্থলগুলির সাথে আরও দক্ষতার সাথে সংযুক্ত করবে। এই উন্নত রেল নেটওয়ার্ক যাত্রী ও পণ্য উভয়ের জন্য ভ্রমণের সময় এবং পরিবহণ খরচ কম করতে সাহায্য করবে। একই সাথে প্রয়োজনীয় পণ্যের আরও নির্ভরযোগ্য এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি রঙিয়া এবং মুরকংসেলেকের মতো স্থানীয় কেন্দ্রগুলিতে সরাসরি দূরপাল্লার রেল যোগাযোগ প্রদানের মাধ্যমে বাসিন্দাদের গতিশীলতা এবং সামগ্রিক সুবিধা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশকে উৎসাহিত করবে, আঞ্চলিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে এবং পর্যটনকে সমর্থন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে এবং অরুণাচল প্রদেশকে একটি উদীয়মান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করে বলে আশা করা হচ্ছে, জানান উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস