
ভোপাল, ২০ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অখিল ভারতীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সুরেশ যোশী ওরফে ভাইয়াজি যোশী বলেছেন যে, জরুরি অবস্থার ঘটনা আমাদের শেখায় যে কেউ যদি স্বৈরাচারী হওয়ার চেষ্টা করে, তবে এই সমাজ এবং এই দেশ তা সহ্য করবে না। সমাজের রক্তে গণতন্ত্র ও জনতন্ত্র মিশে আছে; একে দমানোর চেষ্টা যারা করবে, তারা ধুলোয় মিশে যাবে।
বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘জরুরি অবস্থা ও যুবসমাজ’ শীর্ষক এক জাতীয় আলোচনা সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন ভাইয়াজি যোশী। ‘হিন্দুস্থান সমাচার’ বহুভাষী সংবাদ সংস্থা এবং স্যাম গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। ভাইয়াজি যোশী এই আয়োজনের জন্য হিন্দুস্থান সমাচারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত খুব কম মানুষই সেই জরুরি অবস্থার অভিজ্ঞতা সরাসরি অর্জন করেছেন, কিন্তু অনেকেই সেই ঘটনার কথা শুনেছেন। যারা এর অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, তাঁদের স্মৃতি থেকে সেই দিনগুলি মুছে ফেলা অসম্ভব।
তিনি বলেন, স্বাধীন হওয়ার পর দেশ সংবিধান অনুযায়ী চলবে, এই লক্ষ্যেই একদল বিদগ্ধ মানুষের মাধ্যমে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। সংবিধানের উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে দেশ কীভাবে চলবে এবং কার কী অধিকার বা কর্তব্য হবে তা সুনির্দিষ্ট করা। কিন্তু ১৯৭৫ সালে আমরা দেখেছি কীভাবে শাসনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকারের অপব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সময় দেশে কোনো বৈদেশিক আক্রমণ বা জাতীয় নিরাপত্তার কোনো বড় সংকট ছিল না। তা সত্ত্বেও নিজের ব্যক্তিগত ক্ষমতা বজায় রাখতে ২৫ জুন মধ্যরাতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। পরদিন সংবাদপত্রের পাতা ছিল খালি, কারণ সেন্সরশিপের কারণে কেউ কিছু লিখতে পারেনি।
ভাইয়াজি যোশী বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন রাজনারায়ণ। আদালত সেই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করলে ইন্দিরা গান্ধী পদত্যাগ না করে সারা দেশকে জেলখানায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় দেশের গণতন্ত্রকে শেষ করার এক বেদনাদায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। ‘মিসা’ আইনের মাধ্যমে অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, জর্জ ফার্নান্দেজের মতো দেশপ্রেমিক নেতাদেরও জেলে ঢোকানো হয়েছিল। এই আইনের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, এর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়া বা জনসভা করাও নিষিদ্ধ ছিল।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসকরা নিজেদের অহংকারে অন্ধ হয়ে ভারতাত্মাকে চিনতে ভুল করেন। তারা মনে করেছিলেন বিরোধী নেতাদের জেলে ভরে রাখলে তাঁদের কণ্ঠ রুদ্ধ হবে। কিন্তু ১৯৭৭ সালের নির্বাচন প্রমাণ করে দিয়েছিল যে ভারতের সমাজ ঘুমিয়ে নেই, তারা জাগ্রত। জনতা তাঁদের শক্তির পরিচয় দিয়ে স্বৈরাচারী শক্তিকে যোগ্য জবাব দিয়েছিল।
পরিশেষে ভাইয়াজি যোশী দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, ভারতে কোনো স্বৈরাচারী শাসন সমাজ সহ্য করবে না। দ্বিতীয়ত, গণতন্ত্র ভারতের হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং মানুষের রক্তে মিশে আছে। এই অধিকারকে যারা খর্ব করার চেষ্টা করবে, তাদের নিয়তি হলো ধুলোয় মিশে যাওয়া।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি