
বাঁকুড়া, ১৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ‘জঙ্গলমহল হাসছে’ বলে প্রচার চালালেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠছে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল এলাকায়। জেলার রানিবাঁধ ব্লকের শবর অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে আজও বহু পরিবার মাথাগোঁজার ঠাঁই থেকে বঞ্চিত। আবাস যোজনার সুবিধা না পেয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আদিম শবর জনজাতির মানুষজন। অভিযোগ এমনই।
রানিবাঁধ ব্লকে মোট ১৯টি শবর গ্রাম রয়েছে। অভিযোগ, এর মধ্যে ১৩টি গ্রামের কোনও শবর পরিবারের নামই আবাস প্রকল্পের তালিকায় নেই। সরেজমিনে একাধিক সমীক্ষা হলেও প্রকৃত গৃহহীনদের নাম বাদ পড়েছে বলে বিরোধীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, শাসকদলের প্রভাবেই তালিকা তৈরি হয়েছে। পাকা দোতলা বাড়ির মালিক, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নাম তালিকায় স্থান পেলেও কয়েকশো হতদরিদ্র শবর পরিবার বঞ্চিত রয়ে গিয়েছে।
শবর সম্প্রদায়ের মানুষের একাংশের অভিযোগ, সমীক্ষা প্রক্রিয়ায় গুরুতর গলদ রয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে পৃথক সমীক্ষার দাবিতে তাঁরা রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই দাবিকে সামনে রেখে সম্প্রতি রানিবাঁধ বিডিও অফিসে বিক্ষোভও দেখান শবররা। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দাবি মানা না হলে নির্বাচনের আগেই আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।
অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসকদল শবরদের মন পেতে তৎপর। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সমীক্ষায় কিছু ত্রুটি থাকলেও রাজ্য সরকার শবর সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু শবর পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে বাকিদেরও আবাসনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি শাসকদলের অভিযোগ, ৩৪ বছরের বাম আমলে শবরদের জন্য কিছুই করা হয়নি, এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করা হচ্ছে। বাম দলগুলির পাল্টা দাবি, শবরদের এই বঞ্চনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী বর্তমান শাসকদল ও রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, রানিবাঁধ ব্লকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রায় আড়াই হাজার ঘর বরাদ্দ হলেও বড়দা, বেঠুয়ালা, বড়ডাঙা-সহ ১৩টি শবর গ্রামের জন্য একটি ঘরও বরাদ্দ হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, শবরদের জন্য পৃথক সমীক্ষার দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট