
চুঁচুড়া, ২০ ফেব্রুয়ারি (হি. স.): ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হুগলির বলাগড় থানার আসানপুর গ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে গণপ্রহারের ঘটনায় ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত। শুক্রবার চুঁচুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট ট্র্যাক, প্রথম কোর্ট) পীযূষকান্তি রায় এই রায় ঘোষণা করেন। দোষীদের মধ্যে ৫ জন মহিলা রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ছেলেধরা সন্দেহে উত্তেজিত জনতা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী ও কন্যাকে নৃশংসভাবে মারধর করে। এমনকি তাঁদের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত হন পুলিশকর্মীরাও। অভিযোগ, সেই সময় এক সিভিক ভোলান্টিয়ার তিরবিদ্ধ হয়েছিলেন।
দীর্ঘ শুনানির পর আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৩৩, ৪৩৫, ৩২৬ ও ৩০৭ সহ ১৪৯ ধারায় অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে। এই মামলায় গোপাল রায় ও পূর্ণিমা মালিক নামে দুই অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৩ জনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। উল্লেখ্য, এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিন আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / এ. গঙ্গোপাধ্যায়