
জম্মু, ২০ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : চলতি বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটক আগমনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুক্রবার বিধানসভায় উপস্থাপিত তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে থেকে এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে প্রায় ১ কোটি ৬২ লক্ষেরও বেশি পর্যটক সফর করেছেন। পর্যটন ক্ষেত্রের ধারাবাহিক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পিত কর্মসূচি অনুযায়ী কাজ করছে প্রশাসন।
বিধায়ক জাভেদ হাসান বেগের এক প্রশ্নের উত্তরে পর্যটন দফতর জানায়, গন্তব্যভিত্তিক পর্যটকের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয় এবং গত তিন বছরের তথ্যের সঙ্গে ২০১৯ সালের আগের সময়কালের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিধানসভায় পেশ করা পর্যটন দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে থেকে চলতি বছরে (এখনও পর্যন্ত) জম্মু বিভাগে পর্যটক সংখ্যা ১ কোটি ৬২ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি, অন্যদিকে কাশ্মীর বিভাগে প্রায় ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার পর্যটকের আগমন নথিভুক্ত হয়েছে। এর ফলে মোট পর্যটক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১.৬৭ কোটির বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জম্মু বিভাগে ২ কোটি এবং কাশ্মীর বিভাগে ৯৮ লক্ষের বেশি পর্যটক এসেছিলেন। ২০২৩ সালেও দুই বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লক্ষ পর্যটকের আগমন ঘটেছিল।
চলতি বছরে কাশ্মীরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে গুলমার্গে ১ লক্ষ ১০ হাজারের বেশি, পহেলগামে প্রায় ১ লক্ষ, সোনমার্গে ৪ লক্ষ ৮৭ হাজারেরও বেশি পর্যটক এসেছেন। পাশাপাশি দুধপাথরি ও কোকেরনাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটকের আগমন নথিভুক্ত হয়েছে। জম্মু বিভাগে শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ধামে চলতি বছরে ৬৯ লক্ষের বেশি তীর্থযাত্রীর আগমন ঘটেছে। এছাড়াও শিব খোরি, পাটনিটপ, মানসার, ভাদেরওয়াহ, সানাসার এবং সুরিনসার সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে।
পর্যটন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটন ক্ষেত্র জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পরিকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার, আবাসন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তীর্থ, অ্যাডভেঞ্চার, পরিবেশ ও শীতকালীন পর্যটনের প্রসারেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য