হাফলঙে উদ্বোধন কাছাড় ক্যানসার হাসপাতালের স্যাটেলাইট ক্যানসার ক্লিনিক
হাফলং (অসম), ২০ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : ক্যানসার প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সজাগতা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার অভাবেই বহু মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন, মন্তব্য করেছেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনিৰ্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা। আজ শ
হাফলং ক্যাম্পাস স্যাটেলাইট ক্যানসার ক্লিনিকের উদ্বোধন করছেন দেবোলাল


হাফলং (অসম), ২০ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : ক্যানসার প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সজাগতা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার অভাবেই বহু মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন, মন্তব্য করেছেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনিৰ্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা।

আজ শুক্রবার হাফলং সিভিল হাসপাতালে কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসাৰ্চ সেন্টারের হাফলং ক্যাম্পাস স্যাটেলাইট ক্যানসার ক্লিনিকের উদ্বোধন করে বক্তব্য পেশ করছিলেন দেবোলাল। গার্লোসা বলেন, কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে হাফলঙের সরকারি হাসপাতালে হাফলং ক্যাম্পাস স্যাটেলাইট ক্যানসার ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসাৰ্চ সেন্টারে প্রথমাবস্থায় ক্যানসার রোগ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে ক্যামো থেরাপির মতো ব্যবস্থা থাকবে। তিনি এদিন নেশা বর্জন করার ডাক দিয়ে বলেন, খইনি, পান, বিড়ি, সিগারেট, গুটখা ইত্যাদি থেকেই ক্যানসারের মতো মারণব্যাধি বেড়ে চলছে। তাই ক্যানসার প্রতিরোধে নিজের জীবনশৈলী ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন একান্ত জরুরি।

সবার প্রথমে নেশা বর্জন করে শরীর চর্চা, যোগ ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করা জরুরি বলে মন্তব্য করে দেবোলাল গার্লোসা বলেন, অসমের অন্যতম এই পাহাড়ি জেলার মানুষের কথা চিন্তা করে কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসাৰ্চ সেন্টার হাফলং সরকারি হাসপাতালে হাফলং ক্যাম্পাস স্যাটেলাইট ক্লিনিক সেন্টার খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। তার জন্য কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেবোলাল বলেন, আজ (শুক্রবার) থেকে হাফলং সিভিল হাসপাতালে উদ্বোধিত ক্লিনিকে ক্যানসার শনাক্তকরণ ও ক্যামো থেরাপির ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

এদিকে কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসাৰ্চ সেন্টারের ডা. ইকবাল বাহার বলেন, উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনিৰ্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা এবং ডা. রবি কান্নানের একান্ত সহযোগিতায় হাফলং সিভিল হাসপাতালে কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার হাফলং ক্যাম্পাস স্যাটেলাইট ক্যানসার ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ক্যানসার কেয়ার সেন্টারে ক্যানসার রোগ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ক্যানসার রোগ শনাক্তকরণ ও ক্যামো থেরাপির ব্যবস্থা থাকবে। এই সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমাবস্থায় ক্যানসার রোগ শনাক্ত হয়ে গেলে ওই রোগী ৯০ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে ক্যানসার রোগ শনাক্ত হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১০ শতাংশ।

ডা. ইকবাল বাহার বলেন, কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসাৰ্চ সেন্টারে ডিমা হাসাও জেলা থেকে এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা বেশির ভাগই মুখে ও গলায় ক্যানসার নিয়ে আসেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে আসার পর রোগীরা এখানে আসেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সাদা, পান, বিড়ি, সিগারেট ও গুটখা থেকে মুখে ও গলায় ৯৯ শতাংশ ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তিনি বলেন, মুখ, গলা বা শরীরের কোনও অংশে যখন ক্ষত দেখা দেয়, কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে, তখন এক-দুই মাস ওষুধ খেয়েও যদি কাজ না হয়, তা-হলে বুঝতে হবে, তা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। তাই এই অবস্থায় রোগীকে দেরি না করে শীঘ্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান ডা. ইকবাল বাহার।

শুক্রবার হাফলং সরকারি হাসপাতালে কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসাৰ্চ সেন্টারের হাফলং ক্যাম্পাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধ্যক্ষ মোহিত হোজাই, পরিষদের অধীনস্থ স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহী সদস্য স্যামুয়েল চাংসন, কার্যনির্বাহী সদস্য দনপাইনন থাওসেন, প্রবিতা জহরি, পরিষদ সদস্য মনঞ্জয় লাথাংসা সহ কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড রিসাৰ্চ সেন্টারের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande