
নয়াদিল্লি, ২০ ফেব্রুয়ারি (হি. স.): ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশে নতুন ধ্রুবতারা অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া থেকে শুরু করে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) জার্সিতে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স— দুই বছরেই নজর কেড়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের। সম্প্রতি বিজয় হাজারে এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও তাঁর ব্যাটে রানের ফল্গুধারা বজায় রয়েছে। সম্প্রতি সুনীল দুবে-র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নিজের ক্রিকেট দর্শন ও অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন এই তরুণ তুর্কি। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো:
আইপিএল ২০২৪-এর সেই নতুন মুখ থেকে ২০২৬-এ কেকেআরের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠার সফরকে কীভাবে দেখছেন?
এই সময়ে আমি মূলত বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করার কৌশল শিখেছি। সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া এবং বিপক্ষ দলের রণকৌশল দেখে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়েও এখন আমার কাছে বড় হলো দলের জয়। আমি এখন বিশ্বাস করি, খেলোয়াড় বিশেষে ধরন আলাদা হতে পারে, কিন্তু আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দলের জন্য অবদান রাখা।
অভিষেক নায়ারের প্রশিক্ষণ আপনার খেলায় কী পরিবর্তন এনেছে?
অভিষেক স্যার আমাকে শুধু ক্রিকেট নয়, জীবনকেও চিনতে শিখিয়েছেন। তাঁর কঠিন প্রশিক্ষণ সেশনগুলো আমাকে আমার আয়েশি গণ্ডি (কমফোর্ট জোন) থেকে বের করে এনেছে— যা আমার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। তিনি আমাকে খেলাটাকে মন থেকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির ভরসা আপনার আত্মবিশ্বাস কতটা বাড়িয়েছে?
কেকেআরের মতো একটি বড় দল যখন আপনার ওপর আস্থা রাখে, তখন আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি দায়িত্বও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যখন দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে, তখন আমারও লক্ষ্য থাকে ম্যাচ জিতিয়ে সেই আস্থার মর্যাদা দেওয়া।
রঞ্জি ট্রফিতে রোহিত শর্মার সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
রোহিত ভাইয়ের থেকে শেখার মতো সবথেকে বড় বিষয় হলো তাঁর ‘ম্যাচ প্রিপারেশন’। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, তিনি প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র ফাঁকি দেন না। বোলার কী করতে পারে বা ফিল্ডিং কেমন হতে পারে— এসব নিয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান। তাঁর মতো কিংবদন্তি যদি এত পরিশ্রম করতে পারেন, তবে আমাদেরও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
বুমরাহ বা রাশিদ খানের মতো বোলারদের মোকাবিলা করতে নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেন?
জসপ্রীত বুমরাহর মতো বোলারদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়া সবসময়ই কঠিন। অনুশীলনে যতই খাটুন না কেন, ম্যাচে তাঁদের খেলাটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নিজেকে তৈরি রাখার জন্য আমি নেটে অনুশীলনের মানকে যতটা সম্ভব কঠিন করি, যাতে মূল ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বল সামলাতে পারি।
আপনার আদর্শ ক্রিকেটার কারা?
ছোটবেলায় এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলিকে দেখে বড় হয়েছি। তবে বর্তমানে আমি শুভমন গিলের খেলা খুব পছন্দ করি। এখন আমি ওকেই আমার আদর্শ মানি।
আগামী দিনের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
আমি শুধু বলব, যতটা পারো পরিশ্রম করো এবং বেশি সময় মাঠে কাটাও। ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, এটি জীবনের স্পন্দন। খেলাটাকে ভালোবাসতে শিখলে সাফল্য নিজে থেকেই আসবে।
টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার জন্য আপনার কোনো বার্তা আছে?
আমি নিশ্চিত যে টিম ইন্ডিয়া এবারও বিশ্বকাপ জিতবে। কাপ জয়টাই আসল, কে ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট হলো তাতে কিছু যায় আসে না। ট্রফিটা দেশে আসাই আমাদের সবার একমাত্র লক্ষ্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি