জাতীয় সম্মান, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন
কলকাতা, ২০ ফেব্রুয়ারি (হি. স. ) : দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কংগ্রেস কর্মীদের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত
দেবজিৎ সরকার


কলকাতা, ২০ ফেব্রুয়ারি (হি. স. ) : দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কংগ্রেস কর্মীদের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন তিনি।

শুক্রবার সল্টলেক বিজেপি কার্যালয়ে তিনি বলেন, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ প্রায় ১০০-রও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ২০ জন রাষ্ট্রপ্রধান, বহু মন্ত্রী, বিশ্ব প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষকর্তা ও হাজারের বেশি সিইও, গবেষক ও নীতি নির্ধারক উপস্থিত ছিলেন, সেখানে কংগ্রেস কর্মীদের অসভ্য আচরণ আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে। এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মদতেই সংগঠিত হয়েছে বলে বিজেপির ধারণা।

দেবজিত সরকার জানান, ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের পরিচয়ও সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেন, একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ ধরনের আচরণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং দেশের মর্যাদাকে খাটো করার শামিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতায় আসতে না পেরে কংগ্রেস কি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সম্মান নষ্ট করার পথ বেছে নিয়েছে?

এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশিকা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে আদালতের হস্তক্ষেপকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিজেপি শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত কিছু সরকারি কর্মচারী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, বিএলও, এইআরও বা অন্যান্য কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি, হুমকি এমনকি শারীরিক ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় সহায়ক হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ভোটার তালিকায় কোনো মৃত ব্যক্তি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর থেকে বৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের নাম যেন কোনোভাবেই বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান, যাতে সমস্ত যাচাই-বাছাই আইনসম্মত, নিরপেক্ষ ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট যে নির্বাচনকালীন অশান্তি ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে।

কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলি সভা-সমাবেশ করতেই পারে, তবে তা আইন ও শালীনতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে বিজেপি কোনো আপস করবে না।

সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে দেবজিৎ সরকার বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টি নেশন ফার্স্ট নীতিতে বিশ্বাসী। দেশের সম্মান, সংবিধানের মর্যাদা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া—এই তিনটি বিষয়ে আমরা কোনো রকম আপস করব না। প্রয়োজনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।”

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande