
আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : সন্তানরা যে ভাষাতেই পড়াশোনা করুক, বাড়িতে তাদের সঙ্গে মাতৃভাষাতেই কথা বলতে হবে এবং মাতৃভাষা লেখা-পড়া শেখাতে হবে—এই আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার আগরতলায় হাঁপানিয়ায় আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের ইন্ডোর হলে আয়োজিত পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর অঞ্চলের যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, মাতৃভাষা না জানলে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বানডি সঞ্জয় কুমার, সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, সাংসদ কৃতিদেবী সিং দেববর্মণ ও সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যসহ অন্যান্যরা। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
উদ্বোধনী ভাষণে অমিত শাহ ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের জীবনাদর্শের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্বরাজ মানে কেবল নিজের শাসন নয়—স্বভাষা, স্বরাজ ও স্বধর্মের সমন্বয়। তিনি জানান, হিন্দি ভাষার সঙ্গে স্থানীয় ভাষার কোনও বিরোধ নেই, বরং সব ভাষার বিকাশের মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাবে। মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের উপর কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে ২১টি চুক্তি হয়েছে এবং প্রায় ১১ হাজার যুবক মূলস্রোতে ফিরেছে। এর ফলে অঞ্চলে শান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে ও পর্যটন-বিনিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর-পূর্ব এখন বিবাদের নয়, বিকাশের কেন্দ্র হয়ে উঠছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বলেন, ভারত ভাষাগত বৈচিত্র্যের দেশ এবং সেই বৈচিত্র্যকে একসূত্রে বাঁধতে হিন্দি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে আঞ্চলিক ভাষাই মানুষের আত্মপরিচয়—স্থানীয় ভাষা ও হিন্দির সহাবস্থানই জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি। তিনি জানান, রাজ্য সরকার জনজাতি ও আঞ্চলিক ভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশে কাজ করছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে মাতৃভাষা শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বানডি সঞ্জয় কুমার বলেন, রাজভাষা দেশের ঐক্যকে সুদৃঢ় করেছে এবং সরকারি কাজে এর ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি সব ভাষার প্রতি সম্মান ও সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নাগাল্যান্ডের নাগরি লিপি পরিষদের অধিকর্তা ডঃ বি.পি. ফিলিপ, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মিলন রানী জমাতিয়া বক্তব্য রাখেন। স্বাগত ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় রাজভাষা বিভাগের সচিব অংশুলী আর্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিকে ক্ষেত্রীয় রাজভাষা পুরস্কার প্রদান করেন এবং কয়েকটি বইয়ের আবরণ উন্মোচন করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ