আপডেট...অসমে সিআরপিআরএফ-এর প্রতিষ্ঠা দিবসের কুচকাওয়াজ উত্তরপূর্বের জন্য গর্বের বিষয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গুয়াহাটি, ২১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসমে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-র প্রতিষ্ঠা দিবসের কুচকাওয়াজের আয়োজন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য গর্বের বিষয়, বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ শনিবার অসমের রাজধানী গুয়াহাটি
গুয়াহাটিতে সিআরপিএফ-এর ৮৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ


সিআরপিএফ-এর ৮৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবসের কয়েকটি মুহূর্ত


গুয়াহাটি, ২১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসমে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-র প্রতিষ্ঠা দিবসের কুচকাওয়াজের আয়োজন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য গর্বের বিষয়, বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

আজ শনিবার অসমের রাজধানী গুয়াহাটির সরুসজাইয়ে অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিআরপিএফ-এর প্যারেড পরিদর্শনের পাশাপাশি বাহিনীর স্যালুট গ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা এবং সিআরপিএফ-এর ডিজি তথা অসমের প্রাক্তন পুলিশ-প্রধান (ডিজিপি) জ্ঞানেন্দ্ৰপ্ৰতাপ সিং সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ৮৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ৮৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার সিআরপিএফ তাদের প্রতিষ্ঠা দিবসের কুচকাওয়াজ উত্তরপূর্ব ভারতে আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বাহিনীর বার্ষিক কুচকাওয়াজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হবে। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার এই অনুষ্ঠান অসমে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, গত ৮৬ বছর ধরে সিআরপিএফ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সময়কালে বাহিনীর ২,২৭০ জন জওয়ান দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেই তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান। বলেন, তাঁদের আত্মবলিদানের কারণেই দেশ সুরক্ষিত রয়েছে।

৮৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে সকল সিআরপিএফ জওয়ান এবং তাঁদের পরিবারবর্গকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের বীর শহিদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বাহিনীর সাহস, ধৈর্য, বীরত্ব ও আত্মত্যাগ প্রশংসা করেছেন।

অনুষ্ঠানে সিআরপিএফ-এর সুসজ্জিত কুচকাওয়াজ, ব্যান্ড প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যান ও সরঞ্জামের প্রদর্শনী দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

অমিত শাহ আরও বলেন, দেশে একসময় তিনটি বড় অশান্ত অঞ্চল ছিল - জম্মু-কাশ্মীর, মাওবাদী প্রভাবিত এলাকা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল। আগেকার দিনে এ সব অঞ্চলে নিয়মিত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটত। সিআরপিএফ-এর সক্রিয় ভূমিকার ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিআরপিএফ-এর ৭০০ জন জওয়ান, জম্মু-কাশ্মীরে ৫৪০ জন এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বহু জওয়ান আত্মবলিদান দিয়েছেন। অসমে ৭৯ জন জওয়ান আত্মত্যাগ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, দুদিনের অসম সফরের আজ ছিল অমিত শাহের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানের পর তিনি গুয়াহাটির পার্শ্ববর্তী সোনাপুরে অবস্থিত কচুতলিতে গিয়ে ১০ম আসাম পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদর দফতরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande