
ইমফল, ২১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : মণিপুরে সহিংসতার শিকার বিজেপি বিধায়ক ভুংজাগিন ভালতে আর নেই। দীর্ঘদিন গুরুতর আঘাতের সঙ্গে লড়াই করার পর আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ২টা ১৯ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তিনি গুরগাঁওয়ের মেডান্টা মেডিসিটি হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কুকি-জো সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতা ভুংজাগিন ভালতে মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলার থানলন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হলে ৪ মে সহিংসতার দ্বিতীয় দিন গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।
সেদিন ইমফলে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নংথমবাম বীরেন সিঙের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে ফেরার পথে ইমফল পশ্চিম জেলার নাগামাপাল এলাকায় আরআইএমএস (রিমস) রোডে উগ্র জনতার একটি দল তাঁর গাড়ি আটকে দেয়। গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। হামলায় তাঁর মুখের এক পাশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বাম চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিধায়ক ভুংজাগিনের।
এর পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানে করে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দু-বছর ধরে তিনি দিল্লি ও চূড়াচাঁদপুরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অধিকাংশ সময় শয্যাশায়ী অবস্থায় কাটিয়েছিলেন তিনি। গত বছর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি চূড়াচাঁদপুরে ফিরে এসে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে, সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে গুরগাঁওয়ের মেডান্টা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর ব্যক্তিগতভাবে নজর রেখে চলেছিলেন। নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সংহতি ও শান্তির বার্তাবাহক ভুংজাগিন ভালতেকে বিদায় জানিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকে ব্যৰ্থ করে আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিধায়ক।
কুকি-জো সম্প্রদায়ের একজন জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতা হিসেবে ভালতে পাহাড়ি জেলার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০২৩ সালের সহিংসতায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস