
শিবপুরি, ২১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের শিবপুরি জেলায় সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে চলা বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল এবং ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’র ভয় দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মোট ২০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
শনিবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে সাইবার অপরাধ ও মিউল (ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট) ধারকদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মেট্রিক্স’ নামে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ মহাপরিচালক কৈলাস মাকওয়ানা ও এডিজি (সাইবার) এ. সাই মনোহরের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গোয়ালিয়র জোনের আইজি অরবিন্দ কুমার সাক্সেনা ও ডিআইজি অমিত সাংঘীর নির্দেশে শিবপুরি জেলায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার অমন সিং রাঠোরের নেতৃত্বে এবং এসডিওপি কারাইরা আয়ুশ জাখর ও এসডিওপি পিচোর প্রশান্ত শর্মার তত্ত্বাবধানে মোট নয়টি পুলিশ দল গঠন করে অভিযান চালানো হয়।
জানা গেছে , অভিযুক্তরা মহিলাদের নামে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশ্লীল চ্যাট করত। পরে সেই চ্যাটের রেকর্ডিং ব্যবহার করে নিজেদের পুলিশ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ধর্ষণ, চাইল্ড পর্নোগ্রাফির মতো গুরুতর মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিত। ‘কেস সেটেলমেন্ট’-এর নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো।
ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন
HIIU, TOKKI, MIKA, ELOELO, GAGA, HANI, SUGO, COMMECTO, HITSU, HONEY ও COMET অ্যাপের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হতো।
কারাইরা থানায় অন্তর্গত শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা এবং আইটি অ্যাক্টের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও ভাউন্টি থানায় একই দিনে আরও ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি ও ভুয়ো ঋণ সংক্রান্ত পৃথক দুটি মামলাও নথিভুক্ত হয়েছে। চারটি এফআইআর-এ মোট ৩২ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে, যার মধ্যে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধৃত অভিযুক্তরা হল- অঙ্গদ লোধি, বিশাল লোধি, যোগেন্দ্র লোধি, প্রদীপ লোধি, ধনরাম লোধি, সুরজিৎ লোধি, রইশ পাল, নরেশ লোধি, গোলু বিশ্বকর্মা, কৃষ্ণ লোধি, পবন জাটভ, পুরান, সুখদেব লোধি, অর্জুন লোধি, সন্দেশ ওরফে দীপেশ, করণ পারিহার, রাজীব লোধি, প্রদীপ লোধি, প্রদীপ লোধি এবং স্বাগতিক লোধি।
পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে সাতটি চার চাকার গাড়ি, একটি টিভিএস স্পোর্ট মোটরসাইকেল, ২৯ টি মোবাইল ফোন, একটি বাড়ির রেজিস্ট্রি, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নগদ, ১৬ টি এটিএম কার্ড এবং সাতটি ব্যাঙ্কের পাসবুক বাজেয়াপ্ত করেছে ৷ বাজেয়াপ্ত করা জিনিসের মোট মূল্য আনুমানিক ১.৭ কোটি (১৭ মিলিয়ন টাকা)।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য