
কংগ্রেসের প্রতিবাদ ছিল ‘অশোভন ও পরিকল্পিত চক্রান্ত’
গুয়াহাটি, ২১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : সৰ্বভারতীয় ‘কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সরাসরি নির্দেশে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে যুব কংগ্রেস প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে’, অভিযোগ করেছেন অসম প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া।
আজ গুয়াহাটিতে বিজেপির প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে দিলীপ শইকিয়া বলেন, নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপম-এ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এআই শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস ভারতের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ‘শার্টবিহীন প্রতিবাদ’-এর তীব্র সমালোচনা করে একে দেশের জন্য ‘বিশ্বমঞ্চে লজ্জাজনক ঘটনা’ বলে অভিযোগ করেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য জাতীয় লজ্জা, আন্তর্জাতিক পরিসরে এক অপমানজনক মুহূর্ত। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের দেশবিরোধী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।’
দিলীপ শইকিয়া কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, যার মধ্যে ৪০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বহু দেশের মন্ত্রী ও এআই ক্ষেত্রের শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিশ্বমানবতার কল্যাণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির লক্ষ্যে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কংগ্রেসের প্রতিবাদকে তিনি ‘অশোভন ও পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
শইকিয়ার দাবি, দেশের সম্মান ও স্বাভিমানে আঘাত হানাই ছিল কংগ্রেসের উদ্দেশ্য। তিনি অভিযোগ করেন, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বাসভবনে এই ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ রচিত হয়েছিল। দিলীপ বলেন, এই ঘটনায় কংগ্রেস দেশের উন্নয়নের সহযাত্রী নয়, ভারতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার মানসিকতা প্রদর্শন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় মজবুত অবস্থান অর্জন করেছে বলে দিলীপ বলেন, দোকলাম ইস্যু, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও এয়ার স্ট্রাইকের মতো পদক্ষেপ দেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দেশ ও সংসদের ভেতরে-বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে চলেছে।
অসম সহ উত্তরপূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ শইকিয়া বলেন, অতীতেও কংগ্রেস এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে খাটো করেছে। তিনি বলেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের ছেলে অসমে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার অসমের মেধা ও সম্ভাবনাকে অবমূল্যায়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে জওহরলাল নেহরুকে অগ্রাধিকার দিয়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে উপেক্ষা করা হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী ছিল। পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের সমালোচনা করেন দিলীপ শইকিয়া।
সাংবাদিক সম্মেলনে শইকিয়া বলেন, কংগ্রেসের এই আচরণের বিরুদ্ধে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রতিবাদ জানাবে এবং দেশবিরোধী মানসিকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। তিনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করে জানান, কংগ্রেসের কুৎসিত চেহারা উন্মোচন করতে বিজেপি ও তার মিত্রদলগুলির যুব শাখাগুলি রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস