
হুগলি, ২১ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নবঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। একদিকে শাসকদল একে বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়ানোর বড় পদক্ষেপ বলে দাবি করছে , অন্যদিকে ১৫০০ টাকার মাসিক ভাতার জন্য শিক্ষিত বেকারদের দীর্ঘ লাইনকে হাতিয়ার করে কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির।
সম্প্রতি এই প্রকল্পের আবেদন জমা দেওয়ার কেন্দ্রগুলোতে ফিজিক্স, ম্যাথ বা কেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক এবং কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রিধারীদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। এই ছবিকে কেন্দ্র করেই রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘ শাসনামলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে, উল্টে বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আজ উচ্চশিক্ষিত তরুণদের চাকরির বদলে ভাতার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদিকা শশী সিং ঝা এলাকার এই পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক ও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “নোটবন্দির সময় যারা লাইনে দাঁড়ানো দেখে ব্যঙ্গ করেছিলেন, আজ তাঁরাই শিক্ষিত যুবসমাজকে ভাতার জন্য লাইনে দাঁড় করিয়েছেন।”
বিজেপি নেত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী কেন স্থায়ী কর্মসংস্থানের কথা বলছেন না? তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার আসার পর শ্রীরামপুর শিল্পাঞ্চলের কারখানার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। বন্ধ কারখানা খোলার কোনও উদ্যোগ যেমন নেওয়া হয়নি, তেমনি নতুন কোনও শিল্পও আসেনি। বিজেপির দাবি, ভোটের আগে শিক্ষিত যুবকদের ভাতার লোভ দেখানো হচ্ছে, কিন্তু যুবসমাজ আর এই ‘প্রলোভনে’ পা দেবে না। তারা স্থায়ী ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান চায়। যদিও বিজেপি নেত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
––––––––––
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি