
আগরতলা, ২১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধসম—মাতৃভাষার চর্চা ছাড়া শিশুর শিক্ষার সঠিক বিকাশ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ। শনিবার সুকান্ত একাডেমির প্রেক্ষাগৃহে বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর ও ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দফতরের সহযোগিতায় আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষার বিকাশের মাধ্যমেই একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বিকশিত হয় এবং মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হল মাতৃভাষা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মাতৃভাষা সকল মানুষের মৌলিক সম্পদ, যা মা ও মাটির মতোই জন্মসূত্রে প্রাপ্ত। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব বাংলার বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই দিনটি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে—তাই এদিন ভাষা শহীদদের স্মরণের দিনও বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভারত যেমন বহুজাতিক ও বহুভাষিক দেশ, তেমনি ত্রিপুরাও বহু জাতি ও ভাষার মিলনে গঠিত। পারস্পরিক ঐক্য বজায় রেখে প্রত্যেকে নিজ নিজ মাতৃভাষাকে মর্যাদার সঙ্গে চর্চা করে যেতে হবে। মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহমান রাখার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বর্তমান যুব সমাজকে প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মাতৃভাষাকে যুক্ত করে বিশ্বদরবারে মাতৃভাষাকে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। ইংরেজি শেখার প্রয়োজনে যেন কেউ মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা না করে—এ কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ভাষা দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন ২০২৬ সালের পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ নরেশ চন্দ্র দেববর্মা। তিনি ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মাতৃভাষাকে পুনরুজ্জীবিত রাখতে এর চর্চা বাড়ানো জরুরি। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য বলেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দফতরের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া, বুনিয়াদি ও মধ্য শিক্ষা পর্ষদের অধিকর্তা রাজীব দত্ত এবং ত্রিপুরা এসসিইআরটি-র অধিকর্তা এল ডার্লং উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পশ্চিম জেলা শিক্ষা দফতরের আধিকারিক কল্যাণ ভদ্র।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ