চন্দ্রকোনায় নকশা অনুমোদনহীন বাড়ি নির্মাণে কড়া পদক্ষেপ পুরসভার
পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ ফেব্রুয়ারি (হি. স.): ভবন তৈরির নকশা বা ''প্ল্যান'' অনুমোদন না করিয়েই বাড়ি তৈরির প্রবণতা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পুরসভা। ইতিমধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতা প্রচার শুরু করা হয়েছে। স
চন্দ্রকোনায় নকশা অনুমোদনহীন বাড়ি নির্মাণে কড়া পদক্ষেপ পুরসভার


পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ ফেব্রুয়ারি (হি. স.): ভবন তৈরির নকশা বা 'প্ল্যান' অনুমোদন না করিয়েই বাড়ি তৈরির প্রবণতা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পুরসভা। ইতিমধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতা প্রচার শুরু করা হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া বাড়ি নির্মাণ করা হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার প্রায় ১২টি ওয়ার্ডে নকশা অনুমোদন ছাড়াই একাধিক বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও দুই বা তিন তলা বাড়ির কাজ প্রায় শেষের পথে, আবার কোথাও বাসিন্দারা থাকতেও শুরু করেছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর চন্দ্রকোনা পুরসভার চেয়ারপার্সন প্রতিমা পাত্র সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, অনেক নির্মাতাই অনুমোদনের বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি।

পুরসভার পক্ষ থেকে এমন বাড়ির মালিকদের তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপার্সন প্রতিমা পাত্র জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সন্দেহভাজন নির্মাণগুলি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং নথিতে অনেক বাড়িরই প্ল্যান পাসের হদিস মেলেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনও ভাবেই অবৈধ নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনলাইন ও অফলাইন— উভয় মাধ্যমেই চালু রয়েছে। অনলাইনে আবেদনের পর জায়গা পরিদর্শন এবং কাউন্সিলরদের সভার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও নজরদারির অভাবে এই ধরণের বেআইনি নির্মাণ চলছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের মতে, অনুমতি পাওয়ার পরেও নির্মাণকাজ নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলিও। সিপিআইএম-এর স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পৌর আইন সঠিক ভাবে মানা হচ্ছে না এবং প্ল্যান পাস করানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা থাকায় মানুষ বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, অবৈধ নির্মাণের সঠিক তদন্ত হলে স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলরদের ভূমিকা প্রকাশ্যে আসতে পারে। পাল্টা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande