
ভাঙড়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ( হি. স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড় এলাকায় রাসায়নিক ভর্তি ড্রাম বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ আট বছর বয়সী শিশু সাদিকুল আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং সে গত কয়েকদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল। এই একই দুর্ঘটনায় আহত আরও দুই শিশুর চিকিৎসা বর্তমানে হাসপাতালে চলছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ঘাটপুকুর থেকে মধ্য খড়গাছি এলাকায় রাস্তা মেরামতের কাজ চলার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, এলাকায় প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা মেরামতের কাজ চলছিল। রাস্তার ধারে ২০০ লিটারের লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) ভর্তি একটি ড্রাম রাখা ছিল, যা সাধারণত পিচ ও অ্যাসফল্ট গলানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। ওই দিন খড়গাছি এলাকায় চার শিশু ড্রামটির পাশে খেলছিল। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ একটি ড্রাম বিকট শব্দে ফেটে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়। আগুনের শিখায় দগ্ধ হয় সামিউল মোল্লা, রায়হান মোল্লা, রিয়াজ হাসান মোল্লা এবং সাদিকুল মোল্লা। চারজনকেই প্রথমে নলমুড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তীব্র গরমের কারণে ড্রামের ভেতরে থাকা রাসায়নিকের চাপে বিস্ফোরণ ঘটেছে নাকি অন্য কোনও গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রাস্তার কাজ চলাকালীন সুরক্ষাবিধিতে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে। সাদিকুলের অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার জন্য নির্মাণকারী সংস্থার নজরদারির অভাবকে দায়ী করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি