ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের দলাইচুঙায় কাজ বন্ধ করে দিলেন গ্রামবাসীরা
হাফলং (অসম), ২৫ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : ক্ষতিপূরণের গেরোয় ফের আটকে গেল শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর নির্মাণকাজ। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে আজ বুধবার শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের হারাঙ্গাজাও থেকে জাটিঙ্গা অংশের দলাইচুঙায় সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দ
দলাইচুঙায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা


হাফলং (অসম), ২৫ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : ক্ষতিপূরণের গেরোয় ফের আটকে গেল শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর নির্মাণকাজ। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে আজ বুধবার শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের হারাঙ্গাজাও থেকে জাটিঙ্গা অংশের দলাইচুঙায় সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। যার দরুন পুনরায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর নির্মাণের কাজ।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, যতক্ষণ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তাঁদের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেবেন না, ততক্ষণ সড়ক নির্মাণের কাজ করতে দেওয়া হবে। তাঁরা জানিয়েছেন, গত ২৬ নভেম্বর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (নাহাই) ভূমি ও রাজস্ব বিভাগ, উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের পূর্ত বিভাগ, কৃষি বিভাগ, বনবিভাগ যৌথভাবে জরিপ করে ক্ষতিপূরণ বাবদ বিল পরিষদের ভূমি ও রাজস্ব বিভাগ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের শিলচর পিআইইউ কার্যলয়ে জমা দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত এই ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেয়নি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা পথে নেমে আজ থেকে সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, হারাঙ্গাজাও-জাটিঙ্গা অংশের দলাইচুঙায় ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের উড়াল সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ৫০টি পরিবারের বাড়িঘর, বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এমন-কি ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করতে রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক রায় ও নন্দিতা গার্লোসা জরুরিকালীন ভিত্তিতে তিনটি ঘর খালি করে দিয়েছিলেন। এখন এই তিন পরিবারের মাথার ছাদ নেই। তাছাড়া উড়াল সেতু ও সড়ক নির্মাণের জন্য অনেকের বাগান নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে এই পরিবারগুলির রোজগারের রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেছে।

এবার মন্ত্রী কৌশিক রায় ও নন্দিতা গার্লোসা গ্রামবাসীদের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ উত্থাপন করে গ্রামবাসীরা বলেন, ওই দুই মন্ত্রী নিজেদের রাজনৈতিক মুনাফা আদায় করতে গ্রামবাসীদের এভাবে ঠকিয়েছেন। গ্রামবাসীরা বলেন, তাঁদের রোজগারের একমাত্র উৎস ছিল দলাইচুঙায় ৩০ থেকে ৪০টি বাগান। এই বাগানগুলিতে ফল আসার পর বছরে তাঁদের কিছু রোজগার হতো। কিন্তু সড়ক নির্মাণের জন্য এ সব বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আর্থিক দিক দিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সামনে বর্ষার মরশুম। বর্ষার মরশুমে তাঁদের আরও ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হবে। তাই বর্ষার আগে তাঁদের এই ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এবার এ নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনও আপস করতে তাঁরা রাজি নন। যতক্ষণ ক্ষতিপূরণ মিলছে না, সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে হবে বলে দীনেশচন্দ্র আর আগরওয়াল ইনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেড নির্মাণ সংস্থাকে নাকি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার থেকেই দলাইচুঙা উড়াল সেতু এবং সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন গ্রামবাসীরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande