


গুয়াহাটি, ২৫ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : লখিমপুরে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার লাভলিনা বড়গোঁহাইয়ের নামানুসারে এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্য বহুজনের সঙ্গে ছিলেন লাভলিনা বড়গোঁহাইও।
এই স্টেডিয়াম বিশেষত লখিমপুর জেলা সহ উজান অসমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা ক্রীড়ার সার্বিক উন্নয়নে পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
আজ অসম বিজেপির সদর কার্যালয় অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মুখপাত্র কল্যাণ গগৈ জানান, ২০২১ সাল থেকে গত পাঁচ বছরে অসমের ১১টি জেলায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা সদরগুলোতে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আটটি স্টেডিয়ামের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। লখিমপুর ছাড়াও ডিব্রুগড়, নলবাড়ি এবং ডিফুতে ইতিমধ্যেই স্টেডিয়ামগুলোর উদ্বোধন হয়েছে।
এছাড়া ৪০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকি জেলা সদর ও অন্যান্য বিধানসভা এলাকায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এটি অসমের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক বৃহৎ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসমের গৌরব বৃদ্ধিকারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে হিমা দাস, লাভলিনা বড়গোঁহাই, সোনমণি শইকিয়া এবং জয়ন্ত তালুকদারকে অসম সরকার পুলিশ বিভাগে ডিএসপি পদে নিয়োগ দিয়েছে।
এছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়ায় পদকজয়ী ৩৭০ জন খেলোয়াড়কে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে উৎসাহ ও নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
অসম সরকারের উদ্যোগে গুয়াহাটি, কোকরাঝাড় এবং যোরহাটে ‘হাই পারফরম্যান্স স্পোর্টস অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। দলের মুখপাত্র, এ ধরনের সুবিধা দেশের মাত্র কয়েকটি রাজ্যেই উপলব্ধ।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের আয়োজিত ‘খেল মহারণ’ কর্মসূচিও এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে বিশেষত গ্রামীণ এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন ও বিকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।
কল্যাণ গগৈ বলেন, যোগ্য ক্রীড়াবিদদের যথাযথ সম্মান প্রদান করা মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার। লাভলিনা বড়গোঁহাইয়ের নামে স্টেডিয়ামের নামকরণ এবং সরুসজাই ক্রীড়া প্রকল্পের নাম অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া-র নামে রাখা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস