
কলকাতা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : রাজ্যে হিংসা ও দুর্নীতি ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে এমনটাই বললেন রাজ্যপাল ড. সি ভি আনন্দ বোস ।
বুধবার কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরে ‘শান্তি, শুচি, সমৃদ্ধি’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থে এই দুই অশুভ শক্তির সমূলে বিনাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি।
রাজ্যপালের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত রাজ্যের বর্তমান পরিবেশ থেকে হিংসা ও দুর্নীতিকে পুরোপুরি নির্মূল করা না যাবে, ততক্ষণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং তার জন্য দুর্নীতি ও হিংসার এই দ্বৈত সমস্যার অবসান ঘটাতেই হবে।
এদিন ভোটার তালিকার বিশেষ পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়ার সময় ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ শ্রেণিতে চিহ্নিত নথিপত্রগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যপাল। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থার মধ্যে থাকা ত্রুটিগুলো ধাপে ধাপে সংশোধন এবং হালনাগাদ করা সম্ভব হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, উচ্চ আদালত নিজেই এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
কেরালা রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যপাল বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগিয়েছে। প্রথমে কেরালা বিধানসভায় এই প্রস্তাব পাস হয়, তারপর তা কেন্দ্রের কাছে যায় এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা একে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে অভিহিত করেন রাজ্যপাল।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় রাজ্যপাল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, উদ্ভাবনী এবং সাংস্কৃতিক গৌরবে উজ্জ্বল এক ‘নতুন পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক দেন। তিনি এমন এক রাজ্যের স্বপ্ন দেখেন যেখানে যুব নেতৃত্ব এবং মূল্যবোধভিত্তিক উন্নয়ন প্রাধান্য পাবে। রাজ্যপাল ড. বোস বলেন, এই পথ অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গ ‘বিকশিত বাংলা’ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। তাঁর এই কড়া বার্তার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি