জঙ্গলমহলের বুকে ‘মিনি সুন্দরবন’ পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ পাটাঘরের জলাশয়
ঝাড়গ্রাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): লালমাটির পথ আর দিগন্তজোড়া শাল-পিয়ালের অরণ্যের চেনা ছবির মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে এক অচেনা বিস্ময়। জঙ্গলমহলের বুকে গড়ে উঠেছে এক অনন্য প্রাকৃতিক জলাশয়, যাকে এখন অনেকেই ডাকছেন ‘ঝাড়গ্রামের মিনি সুন্দরবন’। বিনপুর-দুই ব্লকের ভু
লালমাটির পথ আর দিগন্ত জোড়া শাল-পিয়ালের অরণ্য এই চেনা ছবির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক অচেনা বিস্ময়


ঝাড়গ্রাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): লালমাটির পথ আর দিগন্তজোড়া শাল-পিয়ালের অরণ্যের চেনা ছবির মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে এক অচেনা বিস্ময়। জঙ্গলমহলের বুকে গড়ে উঠেছে এক অনন্য প্রাকৃতিক জলাশয়, যাকে এখন অনেকেই ডাকছেন ‘ঝাড়গ্রামের মিনি সুন্দরবন’। বিনপুর-দুই ব্লকের ভুলাভেদা অঞ্চলের পাটাঘর এলাকায় এই জলাশয় ঘিরে সাম্প্রতিক কালে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা।

ঘন সবুজে ঘেরা শান্ত জলরাশির বুকে সারি সারি গাছ, স্থির জলে গাছের প্রতিবিম্ব। সব মিলিয়ে দৃশ্যটি যেন এক মায়াবী জগত। মুহূর্তের জন্য মনে হয়, যেন সুন্দরবন-এর কোনও খাঁড়ির ধারে দাঁড়িয়ে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এতদিন এই সৌন্দর্য অনেকটাই অচেনাই ছিল। তবে মুখে মুখে প্রচার ছড়িয়ে পড়তেই ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন এখানে।

বিশেষ করে বেলপাহাড়ী বা ঝাড়গ্রাম ভ্রমণে আসা পর্যটকদের তালিকায় এখন পাটাঘর প্রায় আবশ্যিক গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এখানে পৌঁছনোর পথও কম আকর্ষণীয় নয়। ঝাড়গ্রাম বা বেলপাহাড়ী থেকে গাড়ি কিংবা বাইকে রওনা দিয়ে তামাজুড়ি আমতলা মোড় হয়ে গিদিঘাটি পেরিয়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে লালমাটির মেঠো পথে এগোলেই চোখে পড়ে সেই জলাশয়। ভুলাভেদা থেকে দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার হলেও পথের নৈসর্গিক সৌন্দর্য যাত্রাটিকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, পাটাঘর শুধুই একটি জলাশয় নয় এটি পর্যটনের সম্ভাবনাময় এক নতুন দিগন্ত। উপযুক্ত সরকারি উদ্যোগ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রচার পেলে এই স্থান সহজেই ঝাড়গ্রামের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হতে পারে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের প্রস্তাব, নৌকাভ্রমণের ব্যবস্থা ও বসার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হলে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে।

এ বিষয়ে বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, “পর্যটনের নতুন স্পট হিসেবে পাটাঘর ইতিমধ্যেই পর্যটকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বেলপাহাড়ীতে আসা পর্যটকদের পাটাঘর যাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। তবে প্রশাসনের তরফে রাস্তা, পানীয় জল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ মৌলিক পরিকাঠামো উন্নত করা হলে পর্যটনের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।”

রুক্ষ পাথুরে ডাঙার মাঝে টলটলে নীল জলরাশি। নির্জনতা ও নৈসর্গিক শান্তির টানে পাটাঘরের এই ‘মিনি সুন্দরবন’ ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে পর্যটন মানচিত্রে। জঙ্গলমহলের বুকে এই লুকোনো রত্ন আগামী দিনে কতটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande