
বাঁকুড়া, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): জঙ্গলমহল এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল চিত্র সামনে এল। বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ ব্লকের বারিকুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় মূলত নার্সের উপর নির্ভর করেই চলছে চিকিৎসা পরিষেবা। এমনই অভিযোগ রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
একসময় মাওবাদী মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বারিকূল এলাকায় অবস্থিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স কর্মরত রয়েছেন। তবে টেকনিশিয়ান ও ফার্মাসিস্টের পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের একমাত্র চিকিৎসককে সপ্তাহের অর্ধেক সময় অন্যান্য সরকারি দায়িত্ব পালনে বাইরে থাকতে হয়। ফলে সপ্তাহে মাত্র ৩-৪ দিনই রোগী দেখার সুযোগ পান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের একমাত্র নার্স সোহালী হেমব্রমকেই রোগী দেখা, ইঞ্জেকশন দেওয়া, ব্যান্ডেজ করা থেকে শুরু করে ওষুধ বিতরণ সব দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। তাঁর কথায়, কর্মীর অভাবে বাধ্য হয়েই তাঁকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন রোগী এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য আসেন। প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ এই কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা চিত্ত সহিস ও ফটিক মাহাতো।
কিন্তু পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থার কারণে ন্যূনতম চিকিৎসা পেতেও বহু মানুষকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরের রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের একটি অংশ ব্যবহারযোগ্য থাকলেও বাকি অংশ কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জায়গাও বসবাসের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অভিযোগ মানতে নারাজ। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সরেন জানান, টেলি-মেডিসিন ও ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে এই অভিযোগ তিনি খারিজ করেন।
তবে বিরোধীদের কটাক্ষ, জঙ্গলমহলের মতো এলাকায় টেলি-মেডিসিন কার্যত ‘স্বপ্নের চিকিৎসা’। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, একসময় বারিকুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসা পরিষেবা মিলত। বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। একই সুর বামপন্থীদেরও।
অন্যদিকে, শাসকদল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসুয়া রায় বলেন, ভোটের স্বার্থে বিজেপি এসব অভিযোগ তুলছে। তাঁর দাবি, জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি আগের থেকে অনেক ভালো এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ধাপে ধাপে চিকিৎসক নিয়োগ করা হচ্ছে। বারিকূল স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও শীঘ্রই চিকিৎসক নিয়োগ হবে বলে তিনি আশাবাদী। স্থানীয় বাসিন্দা কমল সর্দার, অনন্ত সর্দার ও সতিস মুর্মু জানান, সম্প্রতি একজন চিকিৎসক যোগ দিলেও নিয়মিত উপস্থিতি প্রয়োজন। প্রতিদিন চিকিৎসক থাকলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন বলেই তাঁদের মত।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট