
জলপাইগুড়ি, ২৫ ফেব্রুয়ারি ( হি. স.) : দোল উৎসব বা হোলির আগে বন্যপ্রাণী শিকারের আশঙ্কায় ডুয়ার্সের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গরুমারা জাতীয় উদ্যান ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বন দফতরের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রতি বছরই এই সময়ে ডুয়ার্সের কিছু এলাকায় চোরাশিকারের অভিযোগ ওঠে, যা মোকাবিলায় এবার বিশেষ ‘অ্যান্টি-পোচিং’ টিম গঠন করা হয়েছে। বনের গহীনে নজর রাখতে কুনকি হাতির পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। অতীতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে গণশিকারের মতো ঘটনা ঘটায় বন দফতর এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তিন বছর আগে গরুমারার নাথুয়া রেঞ্জে শিকারিদের তাড়া খেয়ে দুটি সাম্বর হরিণের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এছাড়া এ বছর জলদাপাড়া থেকেও হাতির দাঁত-সহ দুই পাচারকারী গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গরুমারা এবং জলপাইগুড়ি বনবিভাগের সংবেদনশীল এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ টহলদারি শুরু হয়েছে। নজরদারির কাজে গরুমারায় ১৫টি এবং জলদাপাড়ায় ৪৫টি কুনকি হাতি মোতায়েন করা হয়েছে। বনের প্রবেশ পথ, নাথুয়া রেঞ্জের ঘাসজমি এবং পার্শ্ববর্তী চা বাগানগুলোতে বনকর্মীরা নিরন্তর টহল দিচ্ছেন। নজর মিনার বা ওয়াচ টাওয়ার থেকেও রাখা হচ্ছে কড়া নজর। উত্তরবঙ্গ বন্যপ্রাণী বিভাগের মুখ্য বন সংরক্ষক ভাস্কর জেভি জানিয়েছেন, এ বছর নজরদারিতে বিশেষ দল মোতায়েন করার পাশাপাশি ‘যুগ্ম বন ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সদস্যদেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে জানিয়েছেন, দোল উৎসবের আগে এবং পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত এই বিশেষ সতর্কতা জারি থাকবে যাতে কোনওভাবেই বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি