
বাঁকুড়া, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): সরকার নির্ধারিত সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে গিয়ে বিতর্কের জেরে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল বাঁকুড়ার তালডাংরা এলাকা। অভিযোগ, ধান কেনার সময় অতিরিক্ত ছলতা বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় ওই কৃষকের। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তালডাংরা ব্লকে। মৃত কৃষকের নাম লক্ষ্মীন্দ্র ঘোষ। তিনি ভেল্যাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই তালডাংরার সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় কেন্দ্রে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তালডাংরা ব্লকের চকশ্যামপুর গ্রামের সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় শিবিরে ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন লক্ষ্মীন্দ্র ঘোষ। পরিবারের অভিযোগ, ধান কেনার সময় কৃষকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত পরিমাণে ছলতা বাদ দেওয়া হচ্ছিল। এতে আপত্তি জানান কৃষকেরা। বিষয়টি নিয়ে শিবিরে উপস্থিত আধিকারিক ও রাইস মিল মালিকদের সঙ্গে লক্ষ্মীন্দ্র ঘোষ-সহ একাধিক কৃষকের বচসা শুরু হয়।
পরিবারের দাবি, এই তর্কবিতর্ক চলাকালীন আচমকাই অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লক্ষ্মীন্দ্র ঘোষ। তাঁকে দ্রুত তালডাংরা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুর জন্য ধান ক্রয় শিবিরের আধিকারিক ও রাইস মিল মালিকদের দায়ী করে কৃষকেরা তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসে তালডাংরা থানার পুলিশ।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ধান বিক্রির সময় কুইন্টাল পিছু প্রায় ১২ কেজি ধান ছলতা বাবদ বাদ দেওয়া হচ্ছিল। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় লক্ষ্মীন্দ্র ঘোষের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বচসা হয়। মানসিক আঘাত ও উত্তেজনার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় বিরোধীদের বক্তব্য, সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে চাষিদের উপর নিয়মিত হয়রানি করা হয়। এই মৃত্যুর জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন বিরোধীরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট