
আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করা এবং অপরাধ প্রবণতা কমাতে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। বুধবার অরুন্ধুতিনগরস্থিত মনোরঞ্জন দেববর্মা স্মৃতি পুলিশ স্টেডিয়ামে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরক্ষা বাহিনীকে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পুলিশের পোশাক শুধু দায়িত্বের প্রতীক নয়, এটি গর্বের বিষয়—এই মর্যাদা রক্ষা করে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন শাখার জওয়ানদের প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন অপরাধের হার ৮.৩০ শতাংশ কমেছে। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সূচকে ত্রিপুরা ২৮টি রাজ্যের মধ্যে নিচের দিক থেকে একাদশ স্থানে রয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তায় ৯টি মহিলা থানা চালু রয়েছে এবং প্রতিটি থানায় ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে ১৬টি ব্ল্যাক স্পট ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৮২ শতাংশ এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ১৩ শতাংশ কমেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়তে সরকার জিরো-টলারেন্স নীতি নিয়েছে। এনডিপিএস মামলার নথিভুক্তির হার ১১.০৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত কয়েক বছরে প্রায় ১৬৪১.৮৯ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-এর পাশাপাশি পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরে ৫৭৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও ১০২ জন দালাল গ্রেফতার হয়েছে।
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাইবার পুলিশ স্টেশন চালু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকীকরণে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সম্প্রতি ৯৫৩ জন কনস্টেবল নিয়োগ হয়েছে এবং আরও ৯১৬ জন কনস্টেবল ও ২১৮ জন সাব-ইনস্পেক্টর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ১১৪টি পুলিশ মোটরসাইকেল ও ২২টি নতুন পুলিশ ভ্যানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ বাহিনীর রক্তদান শিবিরও তিনি পরিদর্শন করেন, যেখানে প্রায় ৫০০ জওয়ান স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ আধিকারিক, জওয়ান ও তাদের পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতিতে ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জিপিএস সংযুক্তিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ এবং উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব অভিষেক সিংসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ