
কলকাতা, ১৬ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের পর কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন অজয় কুমার নন্দ। সোমবার লালবাজার সদর দপ্তরে পৌঁছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন পূর্বের মতোই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
পদভার গ্রহণের পরই অজয় কুমার নন্দ সরাসরি ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছান। সেখানে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা শেষে একটি সভা আয়োজনের কথা ছিল। সিপি হিসেবে তিনি স্বয়ং সেই সভার নিরাপত্তাজনিত প্রস্তুতির তদারকি করেন। এরপর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
অজয় কুমার নন্দ বলেন, “কলকাতা পুলিশ আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রতিবারের মতো এবারও ভোট হবে অবাধ ও স্বচ্ছ। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত বাহিনী রয়েছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি নির্বাচনই পুলিশের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল—প্রত্যেকেই পুলিশের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করেন। পুলিশ সেই প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর।
গত শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার আগে গিরিশ পার্ক এলাকায় যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, সে বিষয়েও তিনি মুখ খোলেন। ওই ঘটনায় এক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা এবং বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে সিপি জানান যে, পুলিশ আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
কলকাতা পুলিশ বাহিনীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে নতুন কমিশনার বলেন, শহরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। পদমর্যাদা নির্বিশেষে প্রতিটি আধিকারিক ও কর্মীকে এই দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে। তাঁর কথায়, “আমরা ব্যর্থ হতে পারি না।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক অজয় কুমার নন্দ এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার এবং পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর প্রথম আইজি হিসেবেও কাজ করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি