আরামবাগে নারীশক্তির জয়, দীর্ঘদিনের জমি বিবাদ মিটে সচল হলো গোঘাটের জনপথ
আরামবাগ, ২৩ মার্চ (হি.স.): জয় হলো নারীশক্তির। গোঘাটের কাঁটালী গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়ায় অবশেষে মিলল সমাধান। কাঁটালী শৈলেশ্বর শিব মন্দির থেকে কাঁটালী হাই স্কুল যাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাট
স্কুলের সামনের রাস্তা বন্ধ


আরামবাগ, ২৩ মার্চ (হি.স.): জয় হলো নারীশক্তির। গোঘাটের কাঁটালী গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়ায় অবশেষে মিলল সমাধান। কাঁটালী শৈলেশ্বর শিব মন্দির থেকে কাঁটালী হাই স্কুল যাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দুই বাসিন্দার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে ছিল। অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা জগবন্ধু দে ও সুদেব কুণ্ডুর মধ্যে জমি সংক্রান্ত টানাপোড়েনের কারণে জনসাধারণের এই রাস্তাটি ইচ্ছাকৃতভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, কয়েক বছর আগেও এই রাস্তা দিয়ে অনায়াসে চার চাকা ও ছয় চাকার যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু পরবর্তীকালে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, এক পক্ষ রাস্তার অংশ কেটে দেয় এবং অন্য পক্ষ সেখানে খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এর ফলে রাস্তাটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন কয়েকশো ছাত্রছাত্রীকে কাদা ও গর্ত মাড়িয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে কাঁটালী হাই স্কুলে যাতায়াত করতে হতো। এমনকি জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলের পথও রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়ায় এলাকায়।

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়ে এলাকায়। ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করায় এলাকার মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসেন। তাঁরা রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে ঘিরে অবরোধ গড়ে তোলেন। সোমবার এই আন্দোলনের ফলে গোটা এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে, আটকে পড়ে স্কুলপড়ুয়ারাও। তবে প্রতিবাদী মহিলারা সাফ জানিয়ে দেন— স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ উঠবে না।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোঘাট থানার পুলিশ। উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও। প্রাথমিকভাবে উত্তেজিত জনতাকে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়লেও, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে জনপথ রুদ্ধ করতে পারবে না।

এরপরই প্রশাসনিক তৎপরতায় শুরু হয় রাস্তা তৈরির কাজ। এই প্রক্রিয়ায় এক বিরল দৃশ্য ধরা পড়ে— রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা একত্রে রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগান। বিজেপি নেত্রী দোলন দাস এবং তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির উপস্থিতিতে এই কাজ এগোতে থাকে।

এই আন্দোলনে এলাকার মহিলাদের সাহস ও দৃঢ় অবস্থানই প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। কাঁটালী গ্রামের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, জনমানসের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই পারে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান ঘটাতে এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করতে।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande