
ঝাড়গ্রাম, ৬ মার্চ (হি.স.) : ওড়িশা সীমান্তবর্তী এলাকায় হাতির তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে নয়াগ্রাম ও সাঁকরাইল ব্লকের একাধিক গ্রামে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ। হাতির দলকে ওড়িশার দিকে ফেরাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বনদফতর।
শুক্রবার স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই হাতির দল সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে সাঁকরাইল ব্লকের নেপুরা এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং রাতে বিভিন্ন গ্রামে তাণ্ডব চালিয়ে সকালে আবার নয়াগ্রামের জঙ্গলে ফিরে যায়। এই ঘটনায় নেপুরা, আমলাদাঁড়ি, দক্ষিণ রগড়া, ইটামান্ডুয়া, গড়ধরা ও তেঁতুলিয়া-সহ একাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইটামান্ডুয়া গ্রামে খাবারের খোঁজে একটি বাড়ির দরজা ভেঙে দেয় হাতির দল। পাশাপাশি একটি চার চাকার গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হয়েছে। চাষের জমিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় কয়েকশো বিঘা রোয়া ধান নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও আখ, কুমড়ো, সর্ষে ও লঙ্কা চাষের জমিতেও ক্ষতি হয়েছে।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদাবিলা রেঞ্জে ৩টি, কেশরেখা রেঞ্জে ১৭টি, নয়াগ্রাম রেঞ্জে ৮টি এবং কলাইকুন্ডা রেঞ্জে ৪৮টি হাতি রয়েছে। সব মিলিয়ে নয়াগ্রাম ও সাঁকরাইল ব্লক এলাকায় বর্তমানে ৭৬টি হাতির উপস্থিতি রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার বনদফতরকে হাতি তাড়ানোর জন্য জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীরা দ্রুত প্রশাসন ও বনদফতরের হস্তক্ষেপ, হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। যদিও বনদফতর জানিয়েছে, যাদের বাড়িঘর বা ফসলের ক্ষতি হয়েছে তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো