
কলকাতা, ৬ মার্চ (হি. স.) : ভারতের সামুদ্রিক শক্তিকে আরও সুসংহত করে তুলতে ‘সাগরমালা’ প্রকল্প এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্প আগামী দিনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত ‘সাগর সংকল্প: ভারতের সামুদ্রিক গৌরবের পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক এক জাতীয় সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং নৌপথ দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
মন্ত্রী জানান, ভারতের প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং প্রায় ১৪,৫০০ কিলোমিটার নৌ-চলাচলযোগ্য জলপথ রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের কাছে ভারতের কৌশলগত অবস্থান দেশের একটি অন্যতম সম্পদ। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বন্দরভিত্তিক শিল্পায়ন এবং বহির্বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘সাগরমালা’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পণ্য পরিবহনের খরচ কমানো, বন্দরগুলির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহণকে আরও গতিশীল করা। পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের তালিকায় উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে এবং জাহাজ নির্মাণ ক্লাস্টারগুলি গড়ে তুলতে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, শক্তিশালী বন্দর পরিকাঠামো এবং আধুনিক জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতার ওপর ভর করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত তার সামুদ্রিক নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত